কেরল প্রায় সবসময় কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সরব। রাজ্যের বাম শাসিত সরকার একাধিকবার ঘোষণা করেছে, তারা এই নীতি রাজ্যে কার্যকর করবে না। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক পর্যায়ে, কেরল সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—‘জাতীয় শিক্ষানীতি গোটা দেশের জন্য বিপজ্জনক’ বলে বহুবার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন মন্তব্য করেছেন। কিন্তু এবার রাজনৈতিক এবং আর্থিক পরিস্থিতি এক অদ্ভুত মোড় নিল।
সিপিএম সরকার ঘোষণা করেছে, তারা কেন্দ্রের ‘পিএমশ্রী’ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ১,৫০০ কোটি টাকা গ্রহণ করবে। বিষয়টি নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই অনুদান মূলত নতুন শিক্ষানীতি কার্যকর করার খরচের জন্য দেওয়া হচ্ছে। তবে কেরল সরকারের জন্য এটি কিছুটা আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, কারণ এই প্রকল্পের অর্থ গ্রহণ মানে ঘুরপথে জাতীয় শিক্ষানীতির কিছু শর্ত মেনে নেওয়া।
কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘পিএমশ্রী’ প্রকল্পের টাকা গ্রহণ করতে হলে রাজ্যগুলিকে একটি ‘মৌ’ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। এই চুক্তিতে রয়েছে ত্রিভাষা নীতি সহ শিক্ষানীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। দক্ষিণ ভারতের অনেক রাজ্য, বিশেষ করে কেরল, তামিলনাড়ু, এই ত্রিভাষা নীতির বিরোধী। অর্থাৎ একদিকে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের নীতি কার্যকর করতে চাইছে না, অন্যদিকে একই নীতির শর্তে দেওয়া অনুদান গ্রহণ করছে—এতে তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।
বিরোধী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ বাম সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। এমনকি বাম শিবিরের অন্য অংশের শরিক সিপিআইও এই অনুদান গ্রহণের বিরুদ্ধে সরব। কিন্তু সিপিএমের যুক্তি, “কেন কেন্দ্রের টাকা নেওয়ায় আপত্তি থাকতে পারে? আর্থিক সংকটে এই টাকা রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” তারা আরও বলেছেন, বর্তমানে রাজ্য অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা চাপে, তাই যে সাহায্য আসছে তা গ্রহণ করাই বাস্তবসম্মত।
আরও পড়ুনঃ বাজির তাণ্ডবে চলন্ত মেট্রোয় উঠল পথকুকুর! স্বীকার করল মেট্রো রেল, আতঙ্কে কাঁপল শহর
শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, কেরল সরকার মুখে কেন্দ্রের নীতির বিরোধিতা করলেও কার্যত ঘুরপথে সেই নীতি কার্যকর হচ্ছে। রাজনৈতিক সমালোচনা, বিরোধী দলের তোপ, এবং অর্থনৈতিক প্রয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং শিক্ষার উন্নয়নকে সামনে রেখে সিপিএম সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।





