লাভ জেহাদের ছায়া ওড়িশায়, ১৫ দিন পর খোঁজ মিলল অপহৃত তরুণীর, ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা

অবশেষে হাইকোর্টের সাহায্যে খোঁজ মিলল ১৫ দিন সগে অপহরণ হওয়া বছর ২১-এর তরুণীর। গতকাল ওড়িশার জাজপুরের ধর্মশালা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে তাকে। জানা গিয়েছে আবদুল সেহমাত খান নামের এক যুবক তাকে অপহরণ করে। তরুণীকে জোর করে বিয়ে করে তাকে ধর্মান্তরিত করানোর চেষ্টায় ছিল আবদুল।

জানা গিয়েছে, গত ৫ই ডিসেম্বর ওই তরুণী কলেজে যায় নিজের সার্টিফিকেট আনতে। এই সময়ই আবদুল সেহমাত খান নামের এক যুবক পিছু নেয় তার। এরপর তাকে অপহরণ করা হয়। ওই যুবক অনেকদিন ধরেই তরুণীকে উত্যক্ত করছিল বলে পরিবারের সূত্রে অভিযোগ। এরপর মেয়ে বাড়ি না ফেরায় তার পরিবার স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানায়। কিন্তু জানা গিয়েছে, এই বিষয়ে পুলিশ কোনও অভিযোগ দায়ের করতে রাজী হয়নি। এরপর পরিবারের তরফ থেকে জাজপুর এলাকার এসপি-এর শরণাপন্ন হন। কিন্তু এরপরে পুলিশ অপহৃত তরুণীর খোঁজ দিতে ব্যর্থ হয়।

উপায় না দেখে এরপর তরুণীর পরিবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ১৫ই ডিসেম্বর ওড়িশা হাইকোর্টে নিখোঁজ হওয়া তরুণীর বাবা অভিযোগ জানান যে, বারবার অভিযোগ জানানোর পরেও পুলিশের তরফ থেকে তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করার কোনও প্রয়াস করা হয়নি। তিনি এও জানান যে, সেহমাত খান নামের ওই মুসলিম যুবক দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর মেয়েকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাঁর মেয়ে এই প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তাকে অপহরণ করে ওই যুবক।

এরই মধ্যে একদিন নিখোঁজ হওয়া ওই তরুণী লুকিয়ে তার মাকে ফোন করে জানায় যে সেহমাত তাকে পুরীর কাছে কোনও হোটেলে বন্দী করে রেখেছে। সে এও জানায় যে, সেহমাত তাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করতে চাইছে ও তার উপর শারীরিক নির্যাতনও চালাচ্ছে। তাকে বলা হয়েছে যে সে যদি মুসলিম ধর্ম গ্রহণ না করে, তবে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে সেহমাত। ফোনে ওই তরুণী আরও জানায় যে, তাকে নাকি খুব শিগগিরিই কটকের কোনও এক মসজিদে নিয়ে গিয়ে তাকে ‘নিকাহ্‌’ করবে সেহমাত।

এই ফোন কলের ভিত্তিতেই তরুণীর খোঁজ চালায় পুলিশ। এরপরই সেহমাতকে মদত দেওয়ার অপরাধে তার বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখা হয়েছে। অবশেষে গতকাল সন্ধ্যেয় কটকের জগৎপুর এলাকা থেকে অপহৃত ওই তরুণীকে উদ্ধাত করে পুলিশ। সেহমাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দ্রুতই তাকে আদালতে পেশ করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, হিন্দু তরুণী ও নাবালিকাদের জোর করে বিয়ে করে তাকে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার ঘটনা আকচার ঘটে চলেছে। বিয়ে করতে না চাইলে সেই তরুণীর উপর চলে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ। এই ধরণের ঘটনা বিরল নয়। এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, তা থেকে সম্পূর্ণ নিষ্কৃতি এখনও মেলেনি।

RELATED Articles