সৌজন্যতার নজির গড়ে কূটনৈতিক চালে বাজিমাত নরেন্দ্র মোদীর।
পাকিস্তানে যখন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সম্পর্ক চরম তিক্ততার রূপ নিয়েছে ঠিক তখনই পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে তা নেহাতই সৌজন্যতার খাতিরে।
ওই চিঠিতে নওয়াজের মায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মাত্র। কিন্তু বর্তমান উত্তপ্ত সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেটা নিয়েই কুটনৈতিক মহলে গুঞ্জন চরমে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, বিগত মাসেই লন্ডনে নওয়াজ শরিফের মায়ের মৃত্যু হয়। পাক সংবাদমাধ্যমের দাবি করে জানায়, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে গত মাসেই চিঠি লিখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যে চিঠি ভারতের হাই কমিশনের তরফে গত সপ্তাহেই প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে মারিয়ম নওয়াজের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭শে নভেম্বর লেখা ওই চিঠিতে নরেন্দ্র মোদী বলছেন, “প্রিয় মিয়াঁ সাহেব, গত ২২শে নভেম্বর আপনার মায়ের মৃত্যু হয়েছে জেনে আমি ভীষণভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে আপনার প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, এই কঠিন সময়ে তিনি যেন আপনার পরিবারকে দুঃখ সহন করার শক্তি দেন।”
তবে শুধুমাত্র পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকেই শোক জ্ঞাপন করে চিঠি নয়, সৌজন্যতার চূড়ান্ত নিদর্শন রেখে তাঁর কন্যা তথা পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারিয়ম নওয়াজকেও আলাদা করে বার্তা প্রেরণ করেন মোদী।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে লন্ডনে রয়েছেন। দেশে তাকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ তকমা দিয়েছে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত। একাধিক মামলার গেরোয় পড়ে পাকিস্তানে ফেরা তাঁর পক্ষে দুষ্কর। কিন্তু তা হলে কী হবে? পাকিস্তানের সব বিরোধী দল মিলে ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে যে জোট তৈরি করেছে, তাতে বড় ভূমিকা রয়েছে সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজের।
লন্ডনে থেকেও নিজের মেয়ে মারিয়মের মাধ্যমে বকলমে সরকার বিরোধী আন্দোলন পরিচালনা করছেন নওয়াজ। এই পরিস্থিতিতে নওয়াজকে মোদীর চিঠি কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
প্রসঙ্গত, পূর্ব পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর নওয়াজ শরিফের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল। ২০১৫ সালে নওয়াজের নাতনির বিয়েতেও যোগ দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখা হয় নওয়াজ শরিফের মায়ের।
কূটনৈতিক মহল বলছে, এই শোক বার্তার মাধ্যমে
মোদী আদতে ইমরান খানকে বোঝালেন তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক যতই তিক্ত হোক না কেন, নওয়াজের সঙ্গে মোটেই ততটা খারাপ সম্পর্ক এখনও তাঁর নয়।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!