হাথরাসে গণধর্ষণ নয়, অনার কিলিং হয়েছিল! বিষ্ফোরক তত্ত্ব আইনজীবী এপি সিং এর

গোটা দেশের চোখে তিনি এখন ভিলেন তবে তাতে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তার স্পষ্ট বক্তব্য, হাথরাসে যা হয়েছে তা গণধর্ষণ নয় বরং অনার কিলিং! স্বাভাবিকভাবেই আইনজীবী এপি সিং এর অভিমত প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে হইচই। নির্ভয়া মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়েছিলেন তিনি বস্তুত তার লড়াইয়ের জোরেই ফাঁসির সাজা পেতে দীর্ঘসময় পেয়েছিল অভিযুক্তরা। এবার হাথরাস গণধর্ষণ কান্ডে অভিযুক্তদের হয়ে লড়বেন তিনি তাই এবারও কি একই ঘটনা ঘটতে চলেছে প্রশ্ন উঠছে ওয়াকিবহাল মহলে। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অভিমত প্রকাশ করলেন এপি সিং।

হাথরাস গণধর্ষণ কান্ডে প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে তিনি আগামীকাল সকাল দশটায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজা মানবেন্দ্র সিং এবং অখিল ভারত ক্ষত্রিয় মহাসভার কয়েকজনের সঙ্গে হাথরস-এর এসপি এবং অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। তারপরে আলোচনা করে পরবর্তী কৌশল ঠিক করবেন।

এরপরেই তিনি দৃঢ় ভাষায় জানান, হাথরাসে অনার কিলিং ঘটেছে, ধর্ষণ নয়। অক্টোবরে ২০১৯ থেকে মার্চ ২০২০ পর্যন্ত অভিযুক্ত ও মৃতা তরুণীর মধ্যে ১০৪ বার ফোন কল হয়েছিল। মূল অভিযুক্ত সন্দীপ পেয়েছিল ৬২টি কল আর সন্দীপ করেছিল ৪২টি কল। মৃতার ভাই তাদের প্রেম সম্পর্ককে মান্যতা দিচ্ছিল না তাই এই ঘটনা ঘটেছে।

তাহলে আঘাত কী করে পেল মেয়েটি? তাঁর উত্তর,অভিযুক্ত সন্দীপ ৬ মাস দিল্লিতে ছিল। ঘটনার কয়েকদিন আগেই সে বাড়ি এসেছিল তাই দেখে মৃতার ভাইয়ের সন্দেহ হয় যে বোন সন্দীপের সঙ্গে দেখা করেছে। তাই বোনকে মেরেছিল ভাই। সে তারপর মাঠের মাঝখান দিয়ে পালাতে গেলে কাঁটাতারে জিভ আটকে তাঁর জিভ কেটে যায়। মিডিয়া বলে গেল যে তার জিভ কেটে দেওয়া হয়েছে। জিভ কেটে ফেলা হলে সে পরবর্তী বিবৃতিটা কীভাবে দিয়েছিল?

আদালতে কীভাবে প্রমাণ করবেন যে এটা ধর্ষণ নয় প্রশ্নের উত্তরে এপি সিং জানান, মেডিকেল রিপোর্ট বা এফআইআরে কোথাও ধর্ষণের কথা উল্লেখ নেই। প্রাথমিক তদন্তেও এরকম কিছু পাওয়া যায় নি। নির্যাতিতার মা অভিযোগ করেছিলেন, ঝগড়া হয়েছিল। গ্রামবাসীদের বক্তব্যও আছে। তারা বলেছে যে নির্যাতিতা এবং অভিযুক্তের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। শেষে এপি সিং জানিয়েছেন, মিডিয়া সক্রিয় থাকলে এই মামলার খুব জলদি নিষ্পত্তি হবে।

RELATED Articles