বিহার ভোটে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ লালুর লাল ৩১ বছরের তেজস্বী যাদবই। NDA সরকারের সঙ্গে তুমুল লড়াই দিয়েও হেরে গেলেন এই জনপ্রিয় যুব নেতা। সকাল ৮ টা থেকে শুরু করে ভোররাত প্রায় ৪.২৮ মিনিটে পরিষ্কার হয় বিহারের মসনদে বসতে চলেছেন। তবে একথা মানতেই হবে এবারে নীতীশ কুমারের জোরে নয় প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর ম্যাজিকেই বিহারে ভোট জিতেছে NDA। এই জোটে বড় শরিক হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। অন্যদিকে মহাগটবন্ধনে লালু পুত্র তেজস্বী যাদবের একার জোরেই এই বিশাল লড়াই দিতে পেরেছে মহাজোট।
গভীর রাত পর্যন্ত গণনা শেষে এনডিএ ১২৫ আসনে জিতেছে। মহাজোট ১১০ আসনে। আসাদুদ্দিন ওয়েইসির AIMIM জিতল ৫ আসনে, এলজেপি এবং বিএসসি জিতল একটি করে আসনে। অথচ যাবতীয় বুথ ফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত করছিল বিহারে তেজস্বী যাদবের (Tejashwi Yadav) নেতৃত্বাধীন মহাজোট বড় ব্যবধানে বিহার ভোট জিততে চলেছে। কিন্তু কেনও তা হল না? রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এক বাক্যে মেনে নিচ্ছেন জোটসঙ্গী কংগ্রেসই এই হারের পিছনে মূল কারণ।
এমনিতেই বিহারে তাদের প্রভাব অস্তমিত। তার উপর প্রথম থেকেই বিহার ভোট নিয়ে গা ছাড়া মনোভাব দেখিয়েছে কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) যখন দফায় দফায় বিহারে প্রচারে এসেছেন, একের পর এক জনসভায় বিহারের জনতার মন জিতেছেন তখন কংগ্রেসের হাইকমান্ডের ছায়াও দেখা যায়নি। প্রচারের ফাঁকেই শিমলায় ছুটি কাটাতে চলে গিয়েছেন রাহুল গান্ধী। রাজ্যে একবারের জন্যও আসেননি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও (Priyanka Gandhi)।
এই বিহার ভোটে মহাগটবন্ধনের সবচেয়ে দুর্বল অংশ হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে কংগ্রেস (Congress)। অনেকেই বলছেন, নিজেদের যোগ্যতার চেয়ে বেশি আসনে লড়ে আসলে কংগ্রেসই তেজস্বীর স্বপ্নকে ডুবিয়ে দিল।
এবারের ভোটে তেজস্বীর রাষ্ট্রীয় জনতা দল লড়েছে ১৪৪টি আসনে। কংগ্রেস ৭০টিতে। বামেদের মিলিত আসন ২৯টি। কংগ্রেস ছাড়া প্রত্যেকটি দলের স্ট্রাইক রেট বা সাফল্যের হার ভাল। সেখানে আসন সংখ্যায় বহু পিছনে চার নম্বরে নেমে এসেছে কংগ্রেস। এতগুলি আসনে লড়াই করেও মাত্র ১৯টি আসন জিতেছে তাঁরা। সেখানে বামেরা মাত্র ২৯ আসনে লড়াই করে জিতেছে ১৮ আসনে।
শরদ যাদবের মেয়ে সুহাসিনী শরদ যাদব বা বিহারীবাবু শত্রুঘ্ন সিনহার ছেলে লব সিনহাও মতো মুখও নিজেদের আসনে পরাজিত। গত লোকসভা নির্বাচনেও আরজেডি(RJD)-কংগ্রেস জোটের ভরাডুবি হয়েছিল। তার পরও আসন রফার ক্ষেত্রে তেজস্বী কংগ্রেসকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভুল করেছেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, বিহারে চিরদিনই ভোট হয় জাতপাতের সমীকরণে। কংগ্রেসকে আসন ছাড়ার খাতিরে সেই জাতপাতের সমীকরণকেও উপেক্ষা করেছেন লালুপুত্র।
কংগ্রেস বেশি আসন পাওয়ায় মুকেশ সাহানির ভিআইপি পার্টি, জিতন রাম মাঝির হাম এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহকে উপযুক্ত সংখ্যক আসন ছাড়তে পারেনি আরজেডি। আর সেকারণেই মহাজোট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন মাঝি এবং সাহানি। কুশওয়াহা নাম লিখিয়েছেন চতুর্থ ফ্রন্টে। এই তিনটি দল মহাজোটে থাকলে বিহারের সামাজিক সমীকরণ যে অন্যরকম হত তা বলা বাহুল্য।





