ঠিক যেন বলিউড সিনেমার দৃশ্য। প্রেমিকাকে ও কষ্ট দেওয়া যাবে না এদিকে জন্মদাতা ও জন্মদাত্রীর কথাও ফেলা যাবে না। তাঁরাও যে তাঁর জন্য পাত্রী দেখে রেখেছেন। এখন কী উপায়? মধ্যপ্রদেশের যুবক ঠিক করলেন দু’জনকেই একসঙ্গে বিয়ে করবেন। তাহলে এ কূল ও কূল দু’কূলই বজায় থাকবে। অবশ্যই যদি দুজনে রাজি থাকেন তবেই বিয়ে হবে। সব শুনে প্রেমিকাও রাজি হলেন, বাবা মায়ের দেখা পাত্রীও রাজি হলেন। ব্যস আর আপত্তি কোথায়?
তাই পাত্রীদের পরিবার ও গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে একই মণ্ডপে দুই পাত্রীকে বিয়ে করলেন মধ্যপ্রদেশের এই যুবক সন্দীপ উইকে। মধ্যপ্রদেশের বেতুল এর বাসিন্দা সন্দীপ বেতুল জেলা সদর থেকে ৪০ কিমি দূরে ঘোড়াডোঙ্গরি ব্লকের কেরিয়া গ্রামে গত ৮ই জুলাই এই বিবাহ সম্পন্ন করেন। এই ঘটনা জেলা প্রশাসনের কানে পৌছাতেই তারা তদন্ত শুরু করেছেন যে এই পরিস্থিতিতে এরকম কী করে ঘটল।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে সন্দীপের যিনি প্রেমিকা তিনি হোসঙ্গাবাদ জেলায় থাকেন। সন্দীপ যখন ভোপালে আই টি আই তে পড়তেন তখনই তার সঙ্গে তার প্রেমিকার পরিচয় হয়। তাদের সম্পর্ক চলতে থাকে অন্যদিকে সন্দীপের বাবা-মা ঘোড়াডোঙ্গরি ব্লকের কোয়ালারি গ্রামের এক মহিলাকে সন্দীপের জন্য পছন্দ করেন। এই নিয়ে পরবর্তীকালে ঝামেলা শুরু হয় এবং সন্দীপ, তার প্রেমিকা এবং বাবা মায়ের পছন্দ করে দেওয়া পাত্রীর পরিবার পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়। পঞ্চায়েত জানিয়ে দেয় যে যদি দুই পাত্রীর পরিবার রাজি থাকে তাহলে তারা দুজনেই সন্দীপকে বিয়ে করতে পারে। সেইমত বিয়ে সম্পন্ন হয়।
যদিও অন্য সমস্যা উপস্থিত হয়েছে সন্দীপের জীবনে। এই করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিয়ে করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে। কিন্তু ঘোড়াডোঙ্গরির তহশিলদার মণিকা বিশ্বকর্মা জানিয়েছেন যে সেরকম কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি এই ঘটনার তদন্তের জন্য লোক পাঠাচ্ছেন। সন্দীপ ভেবেছিলেন দুই বউকে নিয়ে এবার সুখে সংসার করবেন বটে কিন্তু এখন স্থানীয় প্রশাসনের মামলার সন্মুখীন হতে পারেন মধ্যপ্রদেশের এই যুবক!





