গোবিন্দভোগ চালের রফতানিতে পুরোপুরি শুল্ক মকুব করতে হবে কেন্দ্রকে, আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি মমতার

গোবিন্দভোগ চালের (Govindbhog rice) রফতানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সেই শুল্ক পুরোপুরি মকুব করতে হবে। এই আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন যে গোবিন্দভোগ চালের রফতানিতে (export) শুল্ক বসানোর ফলে তা বিদেশে রফতানিতে সমস্যায় পড়ছে রাজ্য।

এর জেরে আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়তে পারেন বাংলার কৃষকরা। কৃষকদের স্বার্থের কথা ভেবে যাতে গোবিন্দভোগ চালের রফতানিতে কেন্দ্র সরকার শুল্ক মকুব করে, চিঠি দিয়ে এমনই আবেদন জানান মমতা।

এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে ২০১৭ সালের ২৪শে অক্টোবর জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে গোবিন্দভোগ চাল। এই চালের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে প্রতিটি মানুষ অবগত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শুল্ক যদি মকুব না করা হয় তাহলে সাধারণ কৃষকরা খুব বিপদে পড়বেন। অন্যান্য চালের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি)-এর থেকে এটি বেশি দামি।

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে মুখ‌্যমন্ত্রী লিখেছেন, “গোবিন্দভোগ চাল খুব জনপ্রিয়। ঈশ্বর আরাধনার ক্ষেত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তার জিআই শংসাপত্রও পেয়েছে বাংলা। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে এই চালের ধান উৎপাদন হয়। আরব, কাতার, ওমান, বাহরিন, কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশে এর ভালো চাহিদা আছে। উৎপাদনের পাশাপাশি এর রফতানিতেও রাজ‌্য সরকার বিশেষ উৎসাহ দেয়। কিন্তু সেই পথেই সমস‌্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ এই শুল্ক বৃদ্ধি”।

এর জেরে প্রভাব পড়ছে কৃষকদের উপর। একথা জানিয়ে মমতা লিখেছেন, “ব‌্যবসায়ী থেকে সরাসরি কৃষকদের উপর নানাভাবে এর প্রভাব পড়ছে। ব‌্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। উৎপাদন আর শ্রম অনুযায়ী চাষিদের কোনও লাভই হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, গোবিন্দভোগ চালের রফতানির উপর এই বর্ধিত শুল্ক ছাড় দিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুন”।

RELATED Articles