করোনার আবহেও ভূস্বর্গে জঙ্গিদের আতঙ্ক জারি। শনিবারই জম্মু কাশ্মীর পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর একটি দল হানা দেয় উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার হান্দওয়াড়া এলাকায়। সেখানে সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে রাতভর চলে গুলির লড়াই। আর এই লড়াই শেষে শহীদ হন দেশমাতার ৫ বীরপুত্র। এদের মধ্যেই একজন ছিলেন ২১ নম্বর রাষ্ট্রীয় রাইফেলের সেকেন্ড কমান্ডিং অফিসার কর্নেল আশুতোষ শর্মা। যার জীবনের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান ছিল দেশমায়ের জন্য লড়াই করা। হাল ছাড়তে নারাজ আশুতোষ শর্মার স্বপ্নই ছিল জলপাই রঙের উর্দিই। আর সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি একাধিকবার অসফল হয়েছেন কিন্তু জেদ কখনও ছাড়েননি। অনেকের কাছেই ১৩ সংখ্যাটা অশুভ কিন্তু এই সংখ্যাই তার জীবনের স্বপ্ন পূরণ করেছিল।
এদিন ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে নিজের চোখের জল সামলাতে পারছিলেন না দাদা পীযূষ শর্মা। তিনি বলেছেন, ‘ও নিজের মতে চলতে বেশি পছন্দ করত। কোনো লক্ষ্যের প্রতি একনিষ্ঠ থাকলে পথের কোনও বাধাই সে তোয়াক্কা করত না। ওর একমাত্র স্বপ্ন ছিল ভারতীয় সেনা, অন্য কোনও কিছু নয়।’
জয়পুরের একটি ওষুধ সংস্থায় কাজ করেন পীযুষ বাবু। তাঁর ছোট ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল আশুতোষ। সাড়ে ছয় বছর ধরে ১৩ বারের প্ৰচেষ্টায় অবশেষে সফলতা আসে তার হাতের মুঠোয়। তারপর আর পিছন ফিরতে হয়নি কর্নেল আশুতোষকে।
২০০০-র প্রথম দশকের গোড়ার দিকেই সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন আশুতোষ। ভাইয়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে যেন আবেগে গলা বুজে আসছিল পীযূষের। চোখের জল কিছুটা সামলে তিনি বললেন, গত ১লা মে শেষবার কথা হয়েছিল তাঁর ভাইয়ের সাথে। সেদিন যদি জানতাম আজ আর ওর সাথে কোনদিন কথা হবে না তবে ফোনটাই রাখতাম না। ফোনে ও সেদিন রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর রেইজিং ডে নিয়ে কথা বলছিল। আমাদের ও বলল, কিভাবে করোনার এমন সংকটের মধ্যেও দিনটি উদযাপন করা হয়েছিল। আমার ওকে নিয়ে সবসময়ই চিন্তা হত। আমি ওকে সবসময়ই সতর্কও করতাম। কিন্তু বারবার ও একটাই কথা বলত, ‘আমার কিচ্ছু হবে না, দাদা।’
কিছুদিন আগেই কর্নেল কয়েকটি ছবি পাঠিয়েছিলেন তার পরিবারকে, সেগুলি সবই এখন তাঁর পরিবারের কাছে স্মৃতি। পীযূষের কাছেই ছিল কর্নেল শর্মার ষষ্ঠ শ্রেণীর মেয়ে তমান্না। এখনও সবকিছু বোঝার মতো বয়স ওর হয়নি। বাবা আর যে ফিরবে না, তা এখনও বোঝেনি ছোট্ট তমান্না। ভাইঝি-কে জড়িয়ে পীযূষ বলেছেন, ওর সাহসী বাবার মতো ও-ও কিন্তু সাহসী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ও একদিন ঠিক হয়ে যাবে।





