“বাংলাকে পুলিশ রাজ্য বানাতে চাইছেন মমতা” পত্র পাঠালেন রাজ্যপাল

করোনার পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল ও রাজ্য প্রশাসনের সংঘাত বার বার শিরোনামে এসেছে। আর শুধু করোনার মধ্যেই নয় জগদীপ ধনখড় রাজ্যপালের গদিতে বসার দিন থেকে হালকা হালকা সংঘাত চলেই আসছে। কিন্তু করোনার মধ্যে তা যেন রোজের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোজই চলছে চিঠি চালাচালি। একে অপরকে কটাক্ষ এবং একে অপরকে তীব্র ভাষায় সম্বোধন। এবার ফের মমতার ১৩ পাতার চিঠির উত্তর পাঠালেন জগদীপ ধনখড়। “একইসঙ্গে সরকার ও সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন মমতা।” মুখ্যমন্ত্রীর ১৩ পাতার চিঠির উত্তরে পাল্টা ৪ পাতার চিঠিতে এমনটাই বলছেন রাজ্যপাল।

চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, “বাংলাকে পুলিশ রাজ্য বানাতে চাইছেন মমতা। করোনায় মৃত ব্যক্তিদের যেভাবে সৎকার করা হচ্ছে, তা নিয়েও মন্তব্য করেছেন ধনখড়। তাঁর দাবি, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তলানিতে এসে ঠেকেছে। পাশাপাশি রেশনের ক্ষেত্রেও গণবণ্টনে চলছে চরম রাজনীতি। রাজ্যপালের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী গুরুদেবের আদর্শ থেকে বহুদূরে সরে গিয়েছেন। পাশাপাশি রেশন ব্যবস্থা, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ডাক্তার ও চিকিৎসাকর্মীদের সুরক্ষা নিয়েও সরব হতে দেখা গেল রাজ্যপালকে।

২রা মে রাজ্যপালের ১৪পাতার চিঠির ১৪টি পয়েন্টে তুলে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠির প্রতিটি ছত্রে চোখে পড়েছিল ক্ষোভ।

চিঠিতে কড়া ভাষায় রাজ্যপালের সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ ছিল,রাজ্যপাল তাঁকে এবং তাঁর মন্ত্রীপারিষদকে যে ভাষায় সমালোচিত করেছেন তা একজন রাজ্যপালের ভাষা নয়। এমনকি তাঁর রাজ্যপাল হিসেবে কতটা ক্ষমতা তাও তিনি তাঁকে বুঝিয়ে দেন। রাজ্যপালের ভাষা প্রয়োগ নিয়েও তীব্র প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সেই চিঠিতে রাগের চেয়ে বেশি কষ্টই পেয়েছেন বলেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৩ পাতার ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজ্যপালের এই ভাষা ব্যবহার একেবারেই কাম্য নয়। উপরন্তু রাজ্যপালের কাছ থেকে তিনি সহযোগিতা কামনা করেন কিন্তু পান না। উল্টে আসে চরম সমালোচনা।” এই ভাষা অন্যান্য মন্ত্রীদের কাছেও যে অপমানজনক তাও চিঠিতে ব্যক্ত করেছিলেন মমতা।

RELATED Articles

Leave a Comment