কখনও গোমূত্র, ভারতীয় মসলা বা কখনও রসুন করোনা ভারতবর্ষে আসার পর থেকেই একাধিক দেশীয় টোটকার উদাহরণ উঠে এসেছে।
আর এবার সেই তালিকায় নাম জুড়লো ভেষজের। বিভিন্ন যানবাহনে চেপে করোনা রোধের প্রাথমিক নিয়ম সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে চলাকে কার্যত উপেক্ষা ব্যাপক জনসমাগমের সৃষ্টি করে সেই ভেষজ নিতে হাজির হচ্ছে জনতা। এই ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্র প্রদেশের নেল্লোরের কৃষ্ণপট্টনমে। বেলা যত বাড়ছে ভিড়ের দাপটও তত বাড়ছে।
ওই এলাকার মানুষদের বিশ্বাস করোনাকে মাত দিতে এই ভেষজ নাকি অব্যর্থ!
প্রসঙ্গত, এখানেই শেষ নয়, অক্সিজেন লেভেল কমে গেলে চোখের ড্রপও দেওয়া হচ্ছিল এখানে। আর তা নিতে সব বিধি-নিষেধ শিকেয় তুলে ভিড়ে জমাচ্ছিল আম-জনতা।
তবে আপাতত ভিড়ের চাপে সেই ওষুধ বিলি বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাসখানেক ধরে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার নাম করে বিনামূল্যে এই ভেষজ বিলি করা হচ্ছে। বনিগি আনন্দিয়া নামে এক ব্যক্তি এই ভেষজ বিলি করছিলেন। এতে স্থানীয় বিধায়ক গোবর্ধন রেড্ডিরও উৎসাহ ছিল বলে খবর l
করোনা রোধে যখন রেমডিসিভিরকেও ব্যর্থ বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেখানে এই জরিবুটি কোভিড সারাতে পারে কি না তার কী কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? তবে চিকিৎসকদের একাংশের দাবি এর কোনও প্রমাণ নেই।
এই ঘটনায় কার্যত চাপে অন্ধ্র প্রশাসন। কোভিড মুক্তরাই নন, সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে চেপে রোগীরা ভিড় করছেন এলাকায়। আর এর ফলে ওই ভিড় থেকে ব্যাপক করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা।
প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, রাম নবমী থেকে এই ওষুধ বিলির কাজ শুরু হয়। ১৭ই মে থেকে দেখা গেছে প্রত্যহ চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ আসছেন। তবে বিশিষ্ট আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণ কিছু জড়িবুটি ব্যবহার করা হচ্ছে। যিনি দিচ্ছেন তিনি সার্টিফিকেট প্রাপ্ত নন। চোখের ড্রপটিও দীর্ঘকালীন ক্ষতি করে দিতে পারে।
এই ঘটনায় কী বলছেন উৎসাহ প্রদানকারী ওই বিধায়ক? তাঁর কথায় এটি একটি বিকল্প চিকিৎসা। কিছু মানুষ তো উপকার পাচ্ছেন। তবে কোনও ক্ষতিকারক দিক রয়েছে কি না সেটাও দেখা দরকার।





