পুণের নায়ডু হাসপাতালে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী: শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানালেন নার্স ছায়া জগতাপকে

করোনার জেরে আতঙ্কিত গোটা দেশ। পাশাপাশি সংক্রমণের চিত্রটাও ক্রমশ ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। ভারতে যে সব রাজ্যে ভয়াবহ সংক্রমন ঘটেছে তাদের মধ্যে একটি হল মহারাষ্ট্র। সেই পরিস্থিতি সামলাতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন পুণের নায়ডু হাসপাতালের নার্স ছায়া জগতাপ। তার সেবায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে স্বয়ং ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

মুমূর্ষু রোগীদের সেবায় আত্মনিয়োগ করা একটি নাম হল ছায়া জগতাপ। কাজের মাঝে বাড়ি ফিরতে পারেননি বেশ কয়েকদিন। আর এই পরিস্থিতিতে বাড়ির লোকের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হলো কেবলমাত্র ফোন। মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা যতই বাড়ছে ততই বাড়ছে রাজ্যবাসী ভয়। সেই পরিস্থিতিতে নায়ডু হাসপাতালে দিনের পর দিন কাজ করে চলেছেন নার্স ছায়া জগতাপ। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করছেন হাসপাতালের বাকি নার্স ও চিকিৎসকরা। তাই প্রধানমন্ত্রী নিজেই ফোন করে তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা পেয়ে এক নতুন উদ্যমে কাজ করতে শুরু করেছেন নার্সরা। মারাঠি ভাষায় বেশ খানিকক্ষণ কথোপকথন চলে। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সুস্থতার বিষয়ে খোঁজ নেন। তারপর জানতে চান, তিনি যে মারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়ছেন এতে তাঁর পরিবারের কি মানসিক স্থিতি?

উত্তরে ছায়া অকপটে জানান, তাঁর বাড়ির লোক তাঁকে নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কিত ছিলেন। তিনি ক্রমাগত পরিবারকে বুঝিয়েছেন যে এটা তার দায়িত্ব। তাকে এই কাজ করে যেতে হবে।তার লক্ষ্যে তিনি সর্বদা স্থির তাই তার বাড়ির লোকেরা তার এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। এরপরেই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা কি অতিরিক্ত আতঙ্কিত? ছায়া জানান, তাঁরা রোগীদের সবসময় বোঝানোর চেষ্টা করছেন, পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভই আসবে। এই নিয়ে অযথা ভয়ের কোনো কারণ নেই। হাসপাতালের বাকি কর্মীরাও রোগীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করছেন স্বাভাবিক কথাবার্তা বলে।

এই মারণ রোগের কবল থেকে কিছু মানুষ যে ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছেন সেই কথাও প্রধানমন্ত্রীকে জানান নার্স ছায়া। পাশাপাশি মোদিকেও অযথা ভীত না পাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ছায়া বলেন, “আপনি ভয় পাবেন না। আমরা সবাই মিলে লড়াই করে কোরণাকে দেশ থেকে দূরীভূত করব, আর এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী জগতাপকে তাঁর নিষ্ঠা ও সেবার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনার মতো লক্ষ লক্ষ নার্স, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ, চিকিৎসক দেশের সেবায় নিয়োজিত বলেই আজ এত মানুষ করোনার মুখ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আপনাদের সবাইকে আমার কুর্নিশ। এইভাবেই দেশ করোনামুক্ত হবে। আমরা আবার আগের অবস্থায় শীঘ্রই ফিরে আসবো।”

RELATED Articles

Leave a Comment