ভারতের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক যেন এক অদ্ভুত ধারাবাহিকতা। তবে এবার সেই বিতর্ক একেবারে অতিন্দ্রীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ নতুন কিছু না হলেও, কোনও রাজনীতিক যখন কারও জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন তা শুধু রাজনৈতিক নয়, তা হয়ে ওঠে দর্শন, বিশ্বাস এবং ব্যঙ্গের মিশেল। এমনই এক ব্যতিক্রমী কটাক্ষ শোনা গেল শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে।
সম্প্রতি এক সোশাল মিডিয়া পোস্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্ম নিয়ে। মোদি গত বছর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “মা যতদিন বেঁচে ছিলেন, ভাবতাম জৈবিক প্রক্রিয়ায় আমার জন্ম হয়েছে। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর বুঝলাম, আমাকে পাঠিয়েছেন পরমাত্মা।” এই বক্তব্যই হাতিয়ার করে এবার কল্যাণ বলেন, “যদি মোদির বায়োলজিক্যাল জন্মই না হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কোনও দেশের নাগরিক নন! তাঁকে তো দেবদেবীর কাছেই পুশব্যাক করা উচিত!”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যঙ্গ করে বলেন, “শ্রীরাম, শিব, মা কালী—তাঁদেরও তো বায়োলজিক্যাল জন্ম হয়নি। তাঁরা কি ভারতের নাগরিক? নরেন্দ্র মোদির যদি বায়োলজিক্যাল জন্ম না হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন?” তিনি আরও যোগ করেন, “মোদি নিজেই বলেছেন তিনি ঈশ্বরের দূত। তাহলে তো তাঁকে এই জগতে নয়, পরলোকেই থাকা উচিত।”
এই কটাক্ষের নেপথ্যে রয়েছে আরেকটি বিতর্ক—ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর নির্যাতন ও ‘বাংলাদেশ থেকে আগত’ তকমায় পুশব্যাকের অভিযোগ। কল্যাণ বলেন, “বাংলার যে বাসিন্দারা বাইরের রাজ্যে থাকেন, তাঁরা কি কম বাঙালি? কেউ ভোটে অংশ না নিলে কি তাঁর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যাবে?” প্রশ্নের ঝড় তুলে তিনি সাফ জানান, গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকত্ব নিয়ে এই ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য।
আরও পড়ুনঃ শুক্র গোচর ২০২৫: আগস্ট থেকেই বদলে যাবে ভাগ্য! এই ৩ রাশির জন্য আসছে সুখবর!
তৃণমূল সাংসদ যেন কটাক্ষের আড়ালে তুলে ধরেছেন একটি বড় বার্তা—ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যবধান থাকা উচিত। মোদির ‘ঈশ্বরের দূত’ দাবিকে সামনে এনে কল্যাণ আসলে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির নাগরিকত্ব নীতি এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে। বিতর্ক উসকে দিলেও, এই বক্তব্য যে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজায় নতুন আগুন জ্বালাবে, তা বলাই যায়।





