দেখতে দেখতে দুই মাস হয়ে গেল করোনা তার ভয়াল গ্রাস বসিয়েছে ভারত সহ গোটা বিশ্বে। আক্রান্ত দেশগুলোতে করোনার প্রভাব কমার তো কোনো লক্ষণ নেইই বরং তা আরও ছড়াচ্ছে। ভারতেও হু হু করে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা। প্রায় ৬০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে করোনা আক্রান্তদের হাসপাতাল থেকে ছাড়ার বিধিতে কিছুটা রদবদল করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। শনিবার নতুন এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
মৃদু, খুব সামান্য এবং উপসর্গ এখনও সেভাবে দেখা যায়নি এমন রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নয়া গাইডলাইন জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাঁদের প্রতিদিন তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়াও অক্সিজেনের মাত্রাও পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ১০ দিন পরই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে সেই রোগীকে। তবে পরপর তিনদিন ওই রোগীর জ্বর আসছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ওই রোগীকে সাতদিন বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে হবে।
Ministry of Health & Family Welfare (MoHFW) issues revised discharge policy for #COVID19 patients. pic.twitter.com/6GpWbnAFFB
— ANI (@ANI) May 9, 2020
যে রোগী তিন দিনেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন এবং অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ শতাংশ, তাঁদের ‘মডারেট কেস’ হিসাবে গণ্য করা হবে। তারা আগামী ১০ দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে যেতে পারেন। নয়া গাইডলাইন অনুযায়ী এখন আর তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়ার আগে পরীক্ষা করার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।
অত্যন্ত সংকটজনক করোনা রোগী এবং যদি তাঁর অন্য কোনও রোগ থাকে সেক্ষেত্রে এতদিন হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার আগে দু’বার পরীক্ষা করা হত। দু’টি রিপোর্ট নেগেটিভ হলে তবেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া হচ্ছিল রোগীদের। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের নয়া গাইডলাইন অনুযায়ী, এখন একবার পরীক্ষা রিপোর্ট নেগেটিভ হলে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে রোগীকে। যে সমস্ত রোগীর জ্বর পরপর তিনদিন আসছে এবং অক্সিজেনের মাত্রাও ঠিক নয়, তাঁদের ক্ষেত্রে জ্বর কমা এবং অক্সিজেনের মাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনও রোগীকে ছাড়া যাবে না।
তবে আশার খবরও আছে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে সুস্থতার হারও। বর্তমানে দেশে সুস্থতার হার ৩০ শতাংশ। কোনো কোনো হাসপাতালে একসঙ্গে অনেক রোগীই সেরে উঠেছেন। এমনকি ৩৮ দিন ভেন্টিলেশনে ছিলেন এরকম রোগীও সেরে উঠেছেন করোনা থেকে।





