পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরাতে এবার ৮টি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নবান্নের

করোনার সংক্রমনের জেরে গত ২৫শে মার্চ থেকে দেশব্যাপী লকডাউন অব্যাহত রয়েছে। এরই মাঝে প্রত্যেকটি রাজ্য সরকারই নিজেদের রাজ্যের শ্রমিকদের অন্য রাজ্য থেকে ফেরাতে ব্যস্ত। দেশের কোণে কোণে আটকে থাকা শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যার জেরে তারা কখনও পায়ে হেঁটে আবার কখনও দু’চাকায় ভর করে দূরের পথে যাত্রা করছে। যার জেরে ঘটে যাচ্ছে বড়সড় দুর্ঘটনাও। শুক্রবার ভোর রাতে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের কাছে রেললাইনে ঘুমন্ত ১৬জন শ্রমিককে পিষে দিয়ে যায় মালগাড়ি। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে বিভিন্ন রাজ্য। তাই শীঘ্রই বাইরে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে চান তারা। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যও পরিযায়ীদের জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য রাজ্যে আটকে পড়া মানুষদের স্বার্থে আটটি ট্রেনের ব্যবস্থা করল নবান্ন। অনুমান করা হচ্ছে তাতে অন্তত ৩০ হাজার শ্রমিক ফিরতে পারবেন। ট্রেনগুলি কোথা থেকে কতজন শ্রমিককে নিয়ে কোথায় ফিরবে, তা জানিয়ে রেল মন্ত্রকে একটি তালিকা পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।

সূত্রের খবর, এই ৮ টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা মানুষদের রাজ্যে ফেরাবে। তবে মূলত উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের শ্রমিকদের জন্যই ট্রেনগুলি চেয়েছে নবান্ন। ৯, ১০ এবং ১১ মে – তিনদিন ধরে যাতায়াত করবে ট্রেনগুলি। প্রথম দিন বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ থেকে দফায় দফায় ৪টি ট্রেন ছাড়া হবে। প্রথম ট্রেনটি বেঙ্গালুরু থেকে শুরু করে বাঁকুড়ায় আসবে। সেই ট্রেনে ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার প্রায় কমবেশি ১৮০০ জন শ্রমিক ফিরবেন। দ্বিতীয় ট্রেনটি বেঙ্গালুরু থেকে উত্তরবঙ্গে দিকে যাবে অর্থাৎ নিউ জলপাইগুড়ি। এই ট্রেনে উত্তরবঙ্গের ৪ জেলা, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার ও কালিম্পংয়ের প্রায় ৩৮০০ জন শ্রমিক ফিরবেন। বেঙ্গালুরু থেক পুরুলিয়াগামী তৃতীয় ট্রেনটি ফিরবে পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমানের ২০০০ এর মতো শ্রমিককে নিয়ে।

পরেরদিন ১০ মে জলন্ধর থেকে একটি ট্রেন ব্যান্ডেলে আসবে। তাতে ফিরবেন হুগলি ও নদিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৩০০ জন মানুষ। ১১ তারিখ তিনটি বিশেষ ট্রেনে চিকিৎসার জন্যে আটকে পড়া মানুষদের স্বার্থে ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার মধ্যে দুটি ট্রেন ফিরবে ভেলোরে আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিয়ে। ভেলোর থেকে হাওড়াগামী ট্রেনটি বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দাদের নিয়ে আসবে। ওপর ট্রেনটি ঢুকবে খড়গপুরে। তাতে পূ্র্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দারা ফিরবে। একইদিনে আরেকটি ট্রেন চণ্ডীগড় থেকে দুর্গাপুরে আসছে। সেই ট্রেনে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দারা ফিরবেন। আপাতত এমনই সব পরিকল্পনা করেছে নবান্ন। রেল মন্ত্রকের তরফে ট্রেনের ব্যবস্থা করে বাকিটা কার্যকর করার অপেক্ষা মাত্র।

করোনা ভাইরাসের মাঝে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজের রাজ্যে ফেরাতে চান না বলে দাবি করে রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন একাধিক বিজেপি নেতা। কিন্তু এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পরিযায়ীদের ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা দেখাচ্ছে। পাশাপাশি স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এই বিষয়-এ চিঠি পাঠিয়েছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল নেতৃত্বও। তবে এইসব জিনিসে বেশি কর্ণপাত করছে না রাজ্য সরকার। এসবে গুরুত্ব না দিয়ে আসল কাজটা করতেই বেশি মনোযোগী নবান্ন। তাই শীঘ্রই আটটি ট্রেনের পরিকল্পনা করেছে নবান্ন।

RELATED Articles

Leave a Comment