অনেককাল আগেই কবি বলে গিয়েছেন, ‘বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান’। এই কথাটা খুব সত্যি। আমাদের ভারতবর্ষ এমন একটি দেশ যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ধরণের মানুষের বাস। নানান ধর্মের মানুষ নিজেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করলে অন্য ধর্মের মানুষও সেই অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেন, এমন নজির তো কম নয়।
তবে বর্তমানে দেশে ধর্মীয় উস্কানিমূলক নানান ঘটনা ঘটেছে যার জেরে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বেশ অনেক প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঠিক এমন সময়ই এমন একটি ঘটনা সামনে এল যা ফের নতুন করে সম্প্রীতির নজির গড়ল। এই ঘটনা যে সকলকে বেশ অবাক করবে, তা বলাই বাহুল্য।
শ্রাবণ মাস শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। আর শ্রাবণ মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে কানওয়াড় যাত্রাও। এই সময় শিব ভক্তরা মহাদেবকে তুষ্ট করতে কাঁধে জল নিয়ে পায়ে হেঁটে তা শিবলিঙ্গে ঢালেন। এই কানওয়াড় যাত্রায় খোঁজ মিলেছে এক মুসলিম শিবভক্তের যিনি কী না ইতিমধ্যেই ৫ বার কানওয়াড় যাত্রা সেরে ফেলেছেন। এই বছরও সেই যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলার ভেন্সওয়াল গ্রামের বাসিন্দা ওয়াকিল মালিক। তিনি প্রত্যেক বছর হরিদ্বার থেকে গঙ্গাজল নিয়ে পায়ে হেঁটে বাগপতের মহাদেব মন্দিরে তা অর্পণ করেন। গত ৫ বছর ধরে এমনটাই করে আসছেন তিনি। শিবভক্ত হলেও ওয়াকিল কিন্তু নিজের ধর্মের প্রতিও যথেষ্ট যত্নশীল ও সমানভাবেই নিবেদিত। ওয়াকিলের কথায়, এই যাত্রার মাধ্যমে তিনি সকলকে বোঝাতে চান যে ঈশ্বর কিন্তু এক। আমরাই নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছি।
ওয়াকিলের এই পদক্ষেপের জন্য একদিকে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি, ঠিক তেমনই আবার বেশ বিরোধিতার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তাঁর পরিবারের সদস্যরাই তাঁর এই পদক্ষেপের জন্য তাঁর বিরোধিতা করেছেন একসময়। অনেকেই তাঁকে বলতেন যে তিনি নিজের ধর্মের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। কিন্তু তবুও সমস্ত বাধা-বিপত্তি পেরিয়েও ৫ বছর ধরে কানওয়াড় যাত্রায় অংশ নিয়েছেন ওয়াকিল।
ওয়াকিল জানান, “আমি মহাদেবকে বিশ্বাস করি। আমার বিগত যাত্রাগুলিতে কোনো সমস্যা হয়নি। আমার গ্রামের উভয় সম্প্রদায়ের মানুষেরাই এটা জানেন”। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ষষ্ঠবারের যাত্রার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অনুমতি নিতে যান ওয়াকিল। এই প্রসঙ্গে শামলি জেলা প্রশাসনের নোডাল অফিসার অরবিন্দ কুমার বলেছেন, দেশে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে। তাই কানওয়াড় যাত্রার জন্য কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!