মোরা একবৃন্তে দুটি কুসুম! তীব্র গরমের কারণে হিন্দু ভক্তদের জন্য রাস্তা জল ঢেলে ভেজালেন মুসলিমরা, সাম্প্রদায়িকতার অনন্য নজির

Muslim water road for Hindu: আমরা একবৃন্তে দুটি কুসুম, হিন্দু-মুসলমান কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী লেখা‌ আজও চিরস্মরণীয়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় একে অপরের ওপর ভরসা করেই বেড়ে ওঠে। আবার কোথাও মুখ দেখাদেখি বন্ধ, সামান্য কিছুতেই শুরু হয়ে যায় দাঙ্গা। তবে সবের ওপরে মানুষ সত্য। একজন মানুষই তো অপর মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। সহায় হবেন দরকারে। এমন বহু নিদর্শন চোখে পড়ে‌।‌

কাল খুশির ঈদ। তার মাঝেই বড় সাম্প্রদায়িকতার ছবি ফুটে উঠল সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়। রমজান মাসের মধ্যেই হিন্দুদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন মুসলিম বন্ধুরা। সাম্প্রদায়িকতার এই নিদর্শন ইতিমধ্যেই ফাইনাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়। হিন্দু ভাই বোনেদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা। রমজান মাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা রোজা রাখেন সে সময় সারাদিন যাবৎ তাদের উপবাস রাখতে হয়। সেই সময় তীব্র গরমে মসজিদের বাইরের রাস্তা ভেজাতে দেখা গেল তাদের (Muslim water road for Hindu)। সকলে ভাবছেন এটা আর এমনকি? কিন্তু ঘটনাটি ঠিক কি সেটা জেনে নিন।

মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে খালিপায়ে হিন্দু ভক্তরা মন্দিরে যাচ্ছিলেন। এই তীব্র গরমে খালিপায়ে পিছে রাস্তায় হাঁটা কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা আপনারা সবাই জানেন। তবুও নিজেদের ভক্তির জোরেই হেঁটে চলেছিলেন মন্দিরের দর্শনে। সেই মন্দির দর্শনের রাস্তাতেই পড়ে একটি নামাজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেই মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে পিচ রাস্তা জল দিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছেন দুই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ (Muslim water road for Hindu)। এমন করার কারণ যাতে হিন্দু ভাইবোনেদের মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার কষ্ট কিছুটা লাঘব করা যায়। এই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে তামিলনাড়ু। ঘটে গেছে এক সাম্প্রদায়িক মিলন।

এই ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই ভিডিও দেখে সাম্প্রদায়িকতার বার্তা দিয়েছেন বহু নেট নাগরিক। আবেগে ভেসেছেন বহু নেটিজেন। কেউ কমেন্ট করেছেন, ‘এনারাই হল প্রকৃত মানুষ’। অপর একজন বলেছেন, ‘মানবতার প্রকৃত দৃশ্য’ (Muslim water road for Hindu)

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই এক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী ছিল বেঙ্গালুরু। নামাজ পড়ার সময় হনুমান চল্লিশা চালাতেই শুরু হয়েছিল মারধর দাঙ্গা। সে সময় চলছিল রমজান মাস। রোজা রেখেছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা। এই সময়টা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা দিনভর রোজা রাখেন। রোজা রাখার অর্থ উপবাস করা। সূর্যাস্তের পরে নিয়ম মেনে উপবাস ভাঙা হয় নামাজ পড়ে। সেই সময়ে ফলাহার করেন তারা। এই নামাজ পড়তে গিয়েই এক বিপত্তি ঘটেছিল।

আরও অন্যান্য খবর