জ্বালানি সঙ্কটের সময়ে দেশের মানুষকে সাশ্রয়ের বার্তা দেওয়ার পর এবার নিজেও সেই পথেই হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। সেই পরিস্থিতিতে জ্বালানি খরচ কমাতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিল কেন্দ্র সরকার। এবার নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীকে কনভয়ে আরও বেশি ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
দেশের সাধারণ মানুষকে ইতিমধ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে কার পুলিং, ট্রেন, মেট্রো কিংবা অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, বিদেশ সফর স্থগিত রাখা এবং বিলাসবহুল কেনাকাটাও এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। সরকারের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করতে এবার নিজের কনভয় নিয়েই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজিকে জানিয়ে দিয়েছেন, যতটা সম্ভব কনভয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তবে নতুন গাড়ি কেনার পরিবর্তে বর্তমানে থাকা গাড়িগুলোকেই কাজে লাগানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু প্রদর্শনমূলক পদক্ষেপ নয়, বাস্তবিক অর্থেই সরকারি খরচ এবং জ্বালানি ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যাতে কোনওরকম ঝুঁকি না থাকে, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘ব্লু বুক’-এর সমস্ত নিয়ম মেনেই কনভয়ের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই কোন কোন গাড়ি কমানো সম্ভব এবং কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রেখেও জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে কনভয়ের আকার ছোট হলেও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোনও ঘাটতি রাখা হবে না বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
আরও পড়ুনঃ প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নিলেন তাপস রায়, শুক্রবার হতে পারে স্পিকার নির্বাচন! ২৯০ বিধায়কের শপথের আগে গেরুয়া আলোয় সেজে উঠল বিধানসভা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে শুরু নতুন অধ্যায়!
প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পর দেশের অন্য রাজনৈতিক মহলেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রেখা গুপ্তা এবং মোহন যাদব ইতিমধ্যেই নিজেদের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর, শুধু তাই নয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও একই পথে হাঁটছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রক ও সরকারি দপ্তরেও গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ দপ্তর বা DoPT খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আলাদা নির্দেশিকা জারি করতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। বড় সরকারি অনুষ্ঠান কমিয়ে আনা, অফিস যাতায়াতে মেট্রো বা পুলকার ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি যাতায়াত কমানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চলছে। সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা নেওয়া সম্ভব হবে।






