দেবী কালী বিতর্ক (Kali controversy) যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না। কিছুদিন আগে পর্যন্তও এই বিতর্ক নিয়ে গোটা দেশে যেন আলোড়ন পড়ে। বর্তমানে তা কিছুটা থিতু হলেও, এই নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি তরজা কিন্তু কমেনি। এই কালী বিতর্ককে কেন্দ্র করে বাদল অধিবেশনে যে বিজেপি (BJP) তৃণমূলকে (TMC) চাপে রাখতে চাইবে, তা একরকম আঁচ করা গিয়েছিল বটে। এরই মধ্যে বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে (Locket Chatterjee) করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) একটি প্রশ্ন যেন সেই জল্পনাকে আরও একটু বাড়িয়ে তুলল।
গতকাল দেশে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এদিন একদিকে যেমন সংসদে শুরু হ্যেচজে বাদল অধিবেশন। তেমনই আবার এদিনই ছিল দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। আবার এদিনই উপরাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনয়ন পত্র জমা করেন জগদীপ ধনখড়। আর এসবের মধ্যেই ফের একবার মাথাচাড়া দিল ‘কালী বিতর্ক’।
এদিন মনোনয়ন পত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় সংসদের করিডোরে মুখোমুখি হন লকেট চট্টোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদী। সেই সময়ই আচমকাই লকেটকে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “বাংলায় মা কালীর পুজো ঠিকমতো হচ্চে তো”? তাঁর এহেন প্রশ্নের মধ্যে দিয়েই বেশ পরিষ্কার যে কালী বিতর্ক শেষ হয়েও হয়নি।
বলে রাখি, একটি তথ্যচিত্রে মা কালীর ছবি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। সেখানে কালী সাজা তরুণীর মুখে সিগারেট দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র দেবী কালীকে ‘মদ ও মাংস ভক্ষণকারী দেবী’ বলে মন্তব্য করেন। আর সেই নিয়ে শুরু হয় তৃণমূল-বিজেপির দ্বন্দ্ব। তৃণমূল নেত্রীর এহেন মন্তব্যের বিরোধিতা করা হয় বিজেপির তরফে। মহুয়ার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় এফআইআর দায়ের করে বিজেপি।
এদিকে, কিছুদিন আগেই বাংলার একটি অনুষ্ঠানে ভারচুয়ালি যোগ দিয়ে মা কালীর বন্দনা করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাদল অধিবেশনেও যে এই কালী বিতর্ক তুলে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে চাইবে বিজেপি, তা বেশ স্পষ্ট। আর এদিনের প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশ্ন থেকে তা যেন আরও পরিষ্কার হয়ে গেল।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মা কালীকে অবমাননা করা হয়েছে। বাদল অধিবেশনে তৃণমূল কংগ্রেসকে এর জবাবদিহি করতে হবে”। অন্য এক বিজেপি নেতার এই বিষয়ে বলেন, “ধর্মীয় ভাবাবেগে যেভাবে আঘাত দেওয়া হয়েছে, তা উচিত নয়। এর জবাব তৃণমূলকে দিতে হবে”।





