‘দিদি’ই তো অনুপ্রেরণা! চপশিল্প নিয়ে গবেষণা শুরু হল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নয়া দিশা দেখাচ্ছে ‘মমতা সরকার’

বাংলায় বেকারত্বের সংখ্যা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। এর উপর চাকরি ক্ষেত্রে নানান দুর্নীতি তো রয়েইছে। বিগত বেশ কিছু মাস ধরেই শিক্ষা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও আরও নানান ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে নানান বিতর্ক ছড়িয়েছে। এহেন দুর্নীতির জেরে বন্ধ নিয়োগ প্রক্রিয়া। রাজ্যের উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতী করবে কী? দিনের পর দিন চাকরি না পেয়ে গোটা একটা প্রজন্ম যে অন্ধকাড়ে তলিয়ে যেতে বসেছে, তার দায়ভার কে নেবে!

না, তবে রাজ্যে চাকরি না থাকলেও, ব্যবসার নিত্যনতুন চিন্তাধারা কিন্তু প্রচুর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বারবার বলেই এসেছেন রাজ্যে শিল্পে বিনিয়োগ বেড়েছে। বিনিয়োগ টানতে আপ্রাণ চেষ্টাও করে চলেছে তিনি। আর সব শিল্পের মধ্যে অন্যতম হল ‘চপশিল্প’। আর এটা তো খোদ মুখ্যমন্ত্রীরই মস্তিষ্কপ্রসূত। সুতরাং, চপশিল্প নিয়ে যে আগামী প্রজন্ম বেশ ‘সিরিয়াস’ ভাবেই চিন্তাভাবনা করতে পারে, সেই পন্থা তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দেখিয়েছেন।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে একাধিকবার চপশিল্প নিয়ে নানান মন্তব্য শোনা গিয়েছে। রাস্তার ধারের নানান চপের দোকানের সুখ্যাতিও তাঁর মুখে কম শোনা যায় না। এই চপ নিয়েই যে এক বড়সড় শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে, তা কিন্তু প্রথম উদঘাটন করেছিলেন আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই। তাছাড়া, শুধু চপশিল্প কেন, উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতীরা যাতে চাকরির অভাবে মানসিক অবসাদে না ভোগেন, তার জন্য তিনি সকলকে চুল কাটার শিল্প থেকে শুরু করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে মাছ বিক্রি করা, এমন নানান শিল্পের ধারণা দিয়ে এসেছেন। তবে চপশিল্পের প্রতি যেন রাজ্যবাসীর আলাদাই অনুভূতি কাজ করে।

এবার সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চপশিল্পের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই নিয়ে গবেষণাও শুরু করে দিল রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয়। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন, চপশিল্প নিয়ে গবেষণা। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই চপশিল্প নিয়েই একটি গবেষণা করা হয়েছে। আর সেই গবেষণা পত্র জমাও করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

একটি ছবি বর্তমানে বেশ ঘোরাফেরা করছে যেখানে দেখা যাচ্ছে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পত্রের ফাইলের একটি কভার ছবি। সেই কভার ছবিতে গবেষণার বিষয় লেখা ‘গবেষণায় চপশিল্প’। মাস্টার্স ডিগ্রি ভূগোলের ষষ্ঠ সেমিস্টারে এই গবেষণা পত্রটি পেশ করা হয়েছে (যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭)। আর কভার ছবিতে পড়ুয়ার নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর সবই উল্লেখ করা রয়েছে।

‘দিদি’ই তো অনুপ্রেরণা! চপশিল্প নিয়ে গবেষণা শুরু হল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নয়া দিশা দেখাচ্ছে ‘মমতা সরকার’

গবেষণার এমন বিষয়ের কথা জানতে পেরে অনেকেই বেশ হতবাক। মানে, গবেষণার যে এমনও একটি বিষয় হতে পারে, তা পশ্চিমবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া কেউ আঁচই করতে পারতেন না। এই গবেষণার বিষয় দেখে সকলের মনেই একটাই প্রশ্ন, চপশিল্প নিয়ে গবেষণাটা হল কীভাবে? আর হলেও ঠিক কী কী বিষয় এই গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যাই হোক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় নতুন এই গবেষণার বিষয়টি উঠে তো এল। আর সেই গবেষণা নিয়ে যদি আরও চর্চা হতে থাকে, তাহলে যে সি চপশিল্প একদিন রাজ্যের অন্যতম শিল্প হয়ে উঠে তরুণ প্রজন্মকে নয়া দিশা দেখানোর ক্ষমতা রাখে, তা বলাই বাহুল্য।

RELATED Articles