পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ৫০০ কৃষক সংগঠন কৃষক বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। দিল্লির বাইরে থেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা। তাদের দাবী, নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে কেন্দ্রকে। এই আইনের ফলে কৃষকদের সমস্যা হবে বলে দাবী করেছেন তারা। এই দাবী নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে তারা দিল্লি এসেছেন। এরই মাঝে, আজ, রবিবার, এই কৃষি আইন নিয়ে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, কৃষকদের দাবী মেনেই এই নতুন আইন আনা হয়েছে। এই আইনের দ্বারা তারাই লাভবান হবেন।
এদিন নিজের রেডিও অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদী বলেন, “গত কিছুদিন ধরে কৃষিতে যে বিবর্তন হয়েছে, তা আমাদের দেশের কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা খুলে দেবে। কৃষকদের বিভিন্ন দাবী কোনও না কোনও সময় প্রতিটি রাজনৈতিক দল পূরণ করার অঙ্গীকার করেছেন, সেই সব দাবীই পূরণ করা হয়েছে”।
এই আইন লাগু হওয়ার পর, তা অল্প সময়ের মধ্যেই কৃষকদের সমস্যার সমাধানও করতে শুরু করেছে বলে দাবী জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, “অনেক মতবিরোধের পরে ভারতের সংসদ কৃষি আইনে সংশোধন আনার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই সংশোধনীর ফলে যে শুধুমাত্র কৃষক ভাইদের পায়ের শিকল খুলে গেছে তা নয়, তাদের সামনে নতুন নতুন সম্ভাবনাও খুলে গেছে”।
এদিন অনুষ্ঠানেই মহারাষ্ট্রের এক কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গত চার মাস ধরে ওই কৃষকের ফসলের দাম মেটানো হয়নি। এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “কৃষকদের থেকে ফসল কিনে দাম না দেওয়ার প্রথা বহুদিনের। কিন্তু নতুন কৃষি আইনের ফলে সেটা আর হবে না। ফসল কেনার তিনদিনের মধ্যেই তার দাম দিতে হবে। তা না হলে কৃষকেরা অভিযোগ জানাতে পারেন”।
দেশের ছয়টি রাজ্যের কৃষক নেমেছেন বিক্ষোভে। এর মধ্যেই শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান যে কৃষকদের সব সমস্যা ও দাবীর কথা শুনতে রাজি কেন্দ্র। আগামী ৩রা ডিসেম্বর কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে কেন্দ্র। কিন্তু তার আগে যদি কৃষকেরা আলোচনায় বসতে চান, তবে তাদের কেন্দ্র সরকারের দেখিয়ে জায়গায় বিক্ষোভে বসতে হবে। এই নিয়ে কী পদক্ষেপ নেবে বিভিন্ন কৃষি সংগঠনগুলি, সেটাই এখন দেখার।





