আজ ২৬/১১, ভারতের ইতিহাসে এক কালো দিন। আজ থেকে ঠিক ১২ বছর আগে মুম্বইয়ে হামলা চালায় পাক জঙ্গি। এই হামলায় প্রাণ হারান বহু মানুষ যাদের মধ্যে অন্য দেশের মানুষও ছিলেন। আজ, সংবিধান দিবসের দিন এই হামলার কথা মনে করে বেশ কিছু বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন বৈঠকে তিনি বলেন, মুম্বইয়ের জঙ্গি হামলা ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা। তবে ভবিষ্যতে এই ঘটনার যে পুনরাবৃত্তি হবে না, এ আশ্বাস দেন মোদী। এদিনের হামলায় যারা দেশকে রক্ষা করতে নিজের প্রাণ বলিদান দিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর নিজের বক্তব্যে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ন্যায় রক্ষার প্রসঙ্গে সকলের যে ভূমিকা রয়েছে এবং সকলকে আরও একবার আইন নির্মাণের প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও মনে করিয়ে দিলেন মোদী। এই বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সাংসদরা কীভাবে প্রতিনিয়ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এও নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর মতে, করোনা পড়বে ভারতের নির্বাচন একটা দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রহিতের কথার প্রসঙ্গে উঠে আসে স্যার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তি নির্মাণ প্রসঙ্গও। এই নিয়ে যে দেশের মানুষের মধ্যে এখনও উৎকণ্ঠা রয়েছে তাও স্পষ্ট ভাষাতেই জানান দেন মোদী। তবে তাঁর কাছে দেশের চেয়ে বড় কিছুই না।
এদিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের মানুষকে সংবিধান নিয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। সংবিধানে অনেক বৈশিষ্ট্য আছে, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি, তা হল কর্তব্য পালন। সেখানে নাগরিক কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে। তাই দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব দেশের উপরেই যে বর্তায়, এমন কথাও নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেন মোদীজি।
তিনি বলেন, ‘কেওয়াইসি’ মানে কী তা অল্পবিস্তর সকলেরই জানা। এর অর্থ “নো ইয়োর কাস্টমার”। কিন্তু মোদীজি এদিনের বৈঠকে কেওয়াইসি আলাদাই বর্ণনা দিয়ে বলেন যে, KYC-এর অর্থ KNOW YOUR CONSTITUTION। অর্থাৎ, নিজের দেশের সংবিধানকে আরও ভালোভাবে জানতে হবে। দেশের নতুন প্রজন্মকে সংবিধান নিয়ে আরও সচেতন হতে হবে। তারা যাতে ঠিকভাবে সংবিধান চর্চা করে, তা লক্ষ্য রাখা দরকার। এই প্রসঙ্গে তিনি ‘এক দেশ, এক আইন’-এর উল্লেখও করেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, যে সমস্ত আইনের মূলত কার্যকারিতা নেই, তা নিজের থেকেই অপসৃত হবে।





