‘এই লড়াইয়ে তোমরা একা নও’, করোনায় মা-বাবা হারানো ৪ হাজার অনাথ শিশুকে আর্থিক সাহায্যের পর এবার চিঠি লিখলেন মোদী

কেউ হারিয়েছে তার মাকে, কেউ আবার বাবাকে। কারোর কারোর আবার এতটাই দুর্ভাগ্য যে তারা মা-বাবা দু’জনকেই হারিয়েছে। অতিমারিতে (corona pandemic) যেন তাদের গোটা দুনিয়াটাই এদিক থেকে ওদিক হয়ে গিয়েছে। করোনায় মা-বাবাকে হারানো অনাথ শিশুদের (orphans) জন্য আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।

এবার সেই সমস্ত শিশুদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তাদের চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী। অভিভাবকের ন্যায় চিঠিতে তিনি লিখলেন যে তাদের জীবনের শূন্যতা হয়ত কোনওদিনই দূর হওয়া সম্ভব নয়, তবে তাদের এই লড়াইয়ে যে গোটা দেশ তাদের পাশে রয়েছে, সেকথা তাদের স্মরণ করিয়ে দেন মোদী।

করোনাকালে মা-বাবাকে হারানো পড়ুয়াদের আর্থিক সাহায্যের কথা আগেই ঘোষণা করেছেন মোদী। পিএম কেয়ার্স তহবিল থেকেই সেই অনাথ শিশুদের আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই তহবিল থেকে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তা আগামী প্রজন্মের জন্য এক সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।

চার হাজার শিশু-কিশোরের কাছে পৌঁছেছে মোদীর হাতে লেখা চিঠি। এই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “এই প্রকল্প আপনাদের খোলামনে স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করবে। তোমাদের স্বপ্নপূরণে সাহায্যের কোনও কমতি হবে না”।

এই চিঠিতে তাঁর নিজের পরিবারে ঘটা এক মর্মান্তিক ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রায় এক শতাব্দী আগেও একইভাবে মহামারীর কবলে পড়েছিল গোটা বিশ্ব। তখনই মাতৃহারা হন, আমার মা। মানে আমার দিদাকে হারান আমার মা। আমার মা এতটাই ছোট ছিলেন যে দিদার মুখটাও মনে ছিল না তাঁর। আমার মা নিজের মা’কে ছাড়াই গোটা জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছেন। ভাব তো আমার মা কীভাবে জীবন কাটিয়েছেন। তাই আমি আজ বুঝতে পারি তোমাদের কতটা উৎকণ্ঠা হচ্ছে। তোমাদের হৃদয়ে কতটা যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে”।

এরপরই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যতদিন মা-বাবা ছিল, তারাই তোমাদের বলে দিত কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ। এখন তোমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। ওই শূন্যতা আর কেউ পূরণ করতে পারবে না। কিন্তু তোমাদের পরিবার হিসাবে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, এই লড়াইয়ে তোমরা একা নও। গোটা দেশ তোমাদের সঙ্গে আছে”।

বলে রাখি, পিএম কেয়ার্স তহবিল থেকে এই অনাথ শিশুদের জন্য বছরে ২০ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই সমস্ত শিশুদের ২৩ বছর বয়স পূর্ণ হল, তাদের এককালীন ১০ লক্ষ টাকাও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আবার উচ্চশিক্ষার জন্য বছরে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত সাহায্যের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

RELATED Articles

Leave a Comment