‘বারবার সতর্ক করার পরও শোনেন নি, একদম আর মুখ খুলবেন না’, দিলীপের মুখে লাগাম, সেন্সর করলেন নাড্ডা

দলকে অস্বস্তির হাত থেকে এড়াতে এবার দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) মুখে লাগাম পরাল বিজেপি (BJP)। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকে সংবাদমাধ্যমে আর একদম মুখ খুলতে নিষেধ করা হল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে। তাঁকে সেন্সর (sensor) করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা (J P Nadda)।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে দিলীপ ঘোষকে স্পষ্ট জানানো হয়, “আপনার আলটপকা মন্তব্যে ক্ষতি হচ্ছে দলের। এর আগে বারবার আপনাকে সংযত হতে বলা সত্ত্বেও কাজ হয়নি। তাই আপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে পরিস্থিতি বুঝুন। আপাতত সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলা থেকে বিরত থাকুন”।

দিলীপ ঘোষ বরাবরই স্পষ্টভাষী। সবসময়ই নানান ধরণের মন্তব্য করে ফেলেন তিনি। দলের রাজ্য সভাপতির পদ খোয়ানোর পর থেকে তিনি যে শুধু নিজের বিরোধী দলকেই আক্রমণ করেছেন তা নয়, নিজের দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও একাধিকবার তোপ দেগেছেন তিনি।

কখনও সুকান্ত মজুমদারকে অনভিজ্ঞ বলেছেন, তো কখনও আবার শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছেন তিনি নাকি শুধুমাত্র মেদিনীপুরের নেতা। সম্প্রতিম এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে নিজের মন্তব্যের দ্বারা বিজেপি নেতৃত্বকে কার্যত বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছেন দিলীপবাবু। এই কারণে এবার তাঁকে সরাসরি সেন্সর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেপি নাড্ডা। সেই নির্দেশিকা পৌঁছেও গিয়েছে দিলীপ ঘোষের কাছে।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “আপনার বেশ কিছু কথাবার্তা দলের রাজ্য নেতৃত্বের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রাজ্য নেতৃত্বের অস্বস্তিও বাড়াচ্ছে। এর আগেও এ নিয়ে বারবার আপনাকে সতর্ক করা হয়েছিল। আমাদের আশা ছিল, আপনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন। কিন্তু সদ্য এক সাক্ষাৎকারে করা আপনার বেশ কিছু মন্তব্য শুধু দলের কর্মীদের আঘাত দিয়েছে তাই নয়। দলের ক্ষতিও করেছে। তাই আপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে সবসময় সংবাদমাধ্যম বা জনসমক্ষে এই ধরনের মন্তব্য করবেন না”।

এদিকে আবার বিজেপির এমন নিরদেশিকার জন্য দিলীপের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে। দিলীপ ঘোষকে ‘সমবেদনা’ জানিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “দিলীপ ঘোষের সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্য ছিল, আছে এবং থাকবে। কিন্তু এভাবে দলবদলুরা গিয়ে দিলীপদার মতো পুরনো লোককে কোণঠাসা করে দেবে সেটা হয় নাকি কখনও। কখনও বাংলা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করবে। কখনও দিল্লি থেকে ঠিক করে দেবে, কে কী বলবে সেটা হবে নাকি। আমি দিলীপদাকে বলব, এই নির্দেশিকা মানবেন না। বিরোধিতা করুন। যাদের মাটির সঙ্গে যোগ নেই, তাঁরা দিল্লিতে বসে ঠিক করবে, কে বাংলায় কী বলবে, সেটা হয় না। দিলীপদাকে বলব আপনি আগে যেমন দলে মাথা উঁচু করে চলতেন, তেমনভাবেই চলুন”। কুণালের এহেন মন্তব্য যে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ জল্পনার সৃষ্টি করেছে, তা বলাই বাহুল্য।

RELATED Articles

Leave a Comment