সেই ভয়ে পুরোপুরি কেটে যায়নি। সাময়িক বিরতি দিয়েছিল। হয়তো মানুষ কতটা সচেতন সেটা দেখার জন্যই। কিন্তু এই দেশে সচেতনতাবোধ গড়ে তোলা যে কার্যত অসম্ভব তা প্রমান করলো করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। আর যে ঢেউয়ের জেরে এখনও পর্যন্ত আড়াই লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রাণ চলে গেল। আর এর নেপথ্যে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের। আর ধর্মভীরু একদল মানুষকে।
করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেই চার রাজ্য একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলে নির্বাচন। মুখে মাস্ক নেই, নেই সামাজিক দূরত্ব মানার নির্দেশ। যত বেশি লোক তত চওড়া হাসি রাজনৈতিক নেতাদের মুখে। আর এতেই পরমানন্দ অণুজীবাণু টির। একের পর এক শরীরে আক্রমণ। এই ছবি হয়তো দেশের পাঁচ রাজ্যের। সবচেয়ে বেশি বাংলার।
কিন্তু দেশের অন্য প্রান্তের ছবিটাও একই রকম ভয়াবহ। করোনার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে চলছে কুম্ভ মেলা। শাহি স্নান। ল্যাঙ্গোট পরে কাতারে কাতারে সাধু সন্ন্যাসীর ভীর। করোনার কথা বললে তাঁদের বক্তব্য, এই পুণ্য গঙ্গায় চান করলে সব করোনা পালিয়ে যাবে। তবে করোনা পালাবে কিনা জানা নেই, কিন্তু মানুষের প্রাণ যে হারাচ্ছে তা বলা বাহুল্য।
এবার প্রশ্ন ওঠে এই দুই ক্ষেত্রে সরকার কি ভূমিকা নিয়েছিল! কেনই বা করোনা আবহে কুম্ভ মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হল? কেনই বা শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের লোভের জন্য এই পাঁচ রাজ্যের মানুষদের এত বড় বিপর্যয়ের সামনে ঠেলে দেওয়া হল? মানুষের প্রাণের থেকেও কি এগুলো এত বেশি প্রয়োজনীয় ছিল?
ইনসাকগের ইনস্টিটিউট অব লাইফ সায়েন্স বিভাগের ডিরেক্টর , অজয় পান্ডা’র কথায় , ফেব্রুয়ারিতেই করােনার ডবল ভ্যারিয়ান্ট বি .১.৬১৭ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল । ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলকে বিস্তারিত রিপাের্ট জমা করা হয়েছিল । দেশের অন্তত ১০ টি ল্যাবােরেটরিতে মিউট্যান্ট ভাইরাসের জিনােম সিকুয়েন্স করে গবেষণা শুরু হয়ে গিয়েছিল । কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে গেল ভারতবাসী আর রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের অসচেতনতার কারণে। ভাইরাস যে আবার শক্তি বাড়িয়ে ফিরে আসতে পারে , তা কল্পনাও করেননি কেউ । কেউ । মহারাষ্ট্রে করােনা আক্রান্তদের ১৫-২০ শতাংশর নমুনাতেই ডবল মিউট্যান্ট প্রজাতির স্ট্রেন । পাওয়া গিয়েছিল সে সময়।
এখন হয়তো আরও কয়েক লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে ভাইরাস।





