আজ, সোমবার ১লা জানুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন পেশ করলেন এই বছরের বাজেট। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিতীয়বার জয়লাভের পর আজকের এই বাজেট অধিবেশন ছিল দ্বিতীয় অর্থবর্ষের বাজেট পেশ।
এদিনের বাজেটে নিজের দাবী জানিয়ে একটি টুইট করেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। টুইটে তিনি বলেন যে এই বছরের বাজেটে তিনি চান যে ছোটো, ক্ষুদ্র, ও মাঝারি শিল্প, কৃষিক্ষেত্র ও শ্রমিক সংগঠনে বিনিয়োগ বেশি হোক। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধির কথাও জানান তিনি। আর সর্বশেষে রাহুলের দাবী ছিল যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যাতে বিনিয়োগ আরও বাড়ে। আর তাঁর এই দাবী নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1356106187691839492?ref_src=twsrc%5Etfw
বর্তমানে লাদাখ সীমান্তে যা উত্তপ্ত পরিস্থিতি রয়েছে, এই কারণে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানো অবশ্যই উচিত। তবে তাঁর এই কথাই আবার মনে করিয়ে দেয় ১৯৫৯ সালের বাজেট অধিবেশনকে। সেই সময় রাহুল গান্ধীর প্রপিতামহ জওহরলাল নেহ্রুর পরামর্শেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয়ভার অনেকটা পরিমাণে হ্রাস করা হয়। এর জেরে ভারত-চিন সংঘর্ষে মুখ থুবড়ে পড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
নেহ্রু তাঁর রাজনৈতিক জীবনে দেশের জন্য এমন অনেক সিদ্ধান্ত নেন যা পরবর্তীকালে দেশের জন্য বুমেরাং হয়েই ফেরত আসে। এরই মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত ছিল বাজেটে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয়ভার হ্রাস। জানা যায়, ১৯৫৯ সালের বাজেটের সময় যখন চীনকে নিয়ে একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করছিলোই, ঠিক সেই বছরই ভারতীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ভার কমিয়ে দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহ্রু।
https://twitter.com/IndiaHistorypic/status/1356109140884480008
এই সিদ্ধান্তের ফলেই ভারতীয় সেনারা সরকারের থেকে সেভাবে কোনও সাহায্য পায় না। এরপর ১৯৬২ সালে যখন ভারত-চীন সংঘর্ষ বাঁধে, সেই সময় যুদ্ধে পরাজিত হন ভারতীয় সেনাবাহিনী। এর জেরে চীন ভারতের ভিতরের প্রায় কয়েক হাজার কিলোমিটার জমি দখল করে নেয়। এই জমি বর্তমান আকসাই চীনের অধীনে পড়ে।
এও জানা যায় যে, চীনের সঙ্গে ভারতের সংঘর্ষের ব্যাপারে ভারতীয় সেনাবাহিনী অনেক আগে থেকেই নেহ্রুকে সতর্ক করেন, কিন্তু নেহ্রু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কৃষ্ণা মেনন সেই কথায় কোনও আমলই দেন নি। এও জানা যায় যে ১৯৫৯ সালের আগে নেহ্রু প্রতিরক্ষা বাহিনী ভেঙে দিতেও তৎপর হন। তিনি বলেন যে তাদের আদর্শ অহিংসা। তাই তিনি মনে করেন না যে ভারতে কোনও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে। নেহ্রু এও বলেন যে ভারতে শত্রুর কোনও ভয় নেই। দেশকে সুরক্ষা প্রদান করতে পুলিশই যথেষ্ট বলেন মনে করতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।
গত বছর ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অন্যতম নায়ক অবসরপ্রাপ্ত সেনা এয়ার মার্শাল ডেনজিল কিলোরের একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়। এই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায় কীভাবে জওহরলাল নেহ্রুর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য ভারত-চীন সংঘর্ষে ভারতকে লজ্জিতভাবে হার স্বীকার করতে হয়। তিনি এও জানান যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে উলের জামাকাপড় পর্যন্ত ছিল না। নেহ্রুর এই ভুলের জন্যই আজও সীমান্তে চীনের বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যায়।





