“যখনই বাধা এসেছে, মেয়ের মুখটা মনে করেছি” চোখে জল নিয়ে বললেন নির্ভয়ার মা-বাবা

নিজের সন্তানকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখেছেন তিনি। নৃশংস নির্যাতনের পর মেয়েকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন মা। আজ সকালে সেই অত্যাচারী নরপিশাচ গুলির ফাঁসি হয়েছে। শান্তি পেয়েছেন মা। চোখ থেকে অঝোরে জল পড়ছে কিন্তু চোয়াল শক্ত। ২০১২ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের রাত বড় কঠিন ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু তার পরের আট বছরের লড়াই তাঁকে আরোও অনেক কঠিন বানিয়েছে। আজ তিনি জয় পেয়েছেন। হ্যাঁ, একে জয়ই বলতে হবে। যে চার নরখাদক তাঁর মেয়েকে ছিন্নভিন্ন করে খেল, তাঁর মেয়ের যোনিপথে যারা লোহার রড ঢুকিয়ে বার করে এনেছে অন্ত্র, যাদের অত্যাচারের তীব্রতায় মেয়েটির জীবন চলে গেছে, তাদের ফাঁসি তো মাকে স্বস্তি দেবেই, শান্তি দেবেই! এটা তো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয়।

তাই ধরা অথচ দৃঢ় স্বরে আশাদেবী বলছেন, “আজ শান্তি পেল আমার মেয়ে। বিচার পেল দেশের মেয়ে। অনেকটা দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে বিচার পেলাম আমরা। এই লড়াইয়ের পথে কাঁটা কম ছিল না। যন্ত্রণার শেষ ছিল না। তবু অপেক্ষার শেষ হল। ফাঁসি হল চার জনের। বিচার পেল আমাদের মেয়েটা।” একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন, “লড়াই কিন্তু আমরা থামাব না। দেশের অন্য নির্ভয়াদের জন্য এ লড়াই চালিয়ে যাব।” তিনি যে সকল নির্ভয়ার মা। এ লড়াই তো চালাতেই হবে।

নির্ভয়ার বাবা বললেন, “এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম আমরা। বলে বোঝাতে পারব না কেমন লাগছে। এই দিনটা শুধু আমাদের জন্য না সারা দেশের জন্য আনন্দের দিন। ন্যায়ের দিন। আজ নির্ভয়া নিশ্চয়ই খুশি হবে। মহিলাদের জন্য আরও কঠিন আইন গাইডলাইন আসুক, সেটাই চাই।”

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিনটা এখনও স্পষ্ট মনে আছে আশাদেবীর। কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরার কথা বলে বেরিয়েছিল মেয়ে। ফেরা হয়নি। যে মেয়েকে বাড়িতে দেখার কথা ছিল, তাঁকে দেখতে যেতে হল হাসপাতালে। রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত, ছিন্নভিন্ন মেয়েকে দেখে ভেঙেচুরে শেষ হয়ে গেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, এ যন্ত্রণা সামাল দিতে পারবেন না। কিন্তু তখনও জানতেন না, যন্ত্রণা থেকেই জন্ম নেবে লড়াই।

দিল্লিতে গণধর্ষণ ও অকথ্য অত্যাচারের শিকার হয়েছিল নির্ভয়া। ১৩ দিনের লড়াইয়ের পরে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। আশাদেবীর মনে পড়ছে, মৃত্যুর আগে শুধু একটাই জিনিস চেয়েছিল মেয়ে। কঠোর শাস্তি হোক দোষীদের। মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে বর্ণনাও দিয়ে গেছিলেন অপরাধীদের।

তারপরে কেটে গেছে দীর্ঘ আট বছর। অজস্র টালবাহানা, অজস্র শুনানি, অজস্র আবেদনের শেষে আইনি লড়াই শেষ হল। বারবার বাধা এসেছে, ব্যর্থতা এসেছে। একের পর এক ফাঁসির তারিখ পিছিয়ে যেতে তীব্র গলায় চিৎকার করে বলেছেন, “বিচারের নামে তামাশা হচ্ছে!” অপরাধীদের মানবাধিকারের প্রশ্ন উঠলে দৃঢ় গলায় পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, “আমার মেয়েটার বেঁচে থাকার অধিকার ছিল না? ও বিচার পাবে না?”

RELATED Articles

Leave a Comment