করোনায় নতুন আতঙ্ক: ইতালিতে জমছে মৃতদেহের স্তূপ, বাড়ছে বিপদ!

করোনাভাইরাসের মরণ থাবা চিনের পর যদি কোথাও মারাত্মকভাবে প্রভাব বিস্তার করে সেটি হলো ইতালি। ভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে চীনের পরে থাকলেও সেখানে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সব দেশের পরিসংখ্যানকে। শুধু সোমবারেই করোনা আক্রান্ত ৩৪৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইতালীয় সরকার। এই নিয়ে সেখানে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২,১৫৮ জন। একের পর এক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সেখানকার মানুষ থেকে চিকিৎসক। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীদের দেহ কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। মৃতদেহ রাখার যথেচ্ছ পরিকাঠামোর অভাব সেখানে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের খবর, প্রতিদিন একের পর এক বেড়েই চলেছে শব্দেহের সংখ্যা। কিন্তু সেই অনুযায়ী জায়গা হচ্ছে না মর্গে। আবার দেহগুলি নিরাপদে রাখার জায়গাও নেই। স্বাস্থ্যকর্তাদের, দাবি রোগীদের সংখ্যা এত বেশি যে মানুষকে চিকিৎসার প্রদান করাও দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতালিতে হাসপাতাল বেশ সীমিত আর তাতে বেডে রোগীদের রাখারও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। অন্যদিকে মারা যাওয়ার পরে সমস্যা আরও বাড়ছে। কারণ যেমন-তেমন ভাবে ফেলে রাখা রাখলে সেখান থেকে ছড়াতে পারে নতুন সংক্রমণ অথচ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সঙ্গে রাখার জন্য যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা আর নেই ইতালিতে।

চিনের বাইরে করোনাভাইরাসের এই মড়ক রূপ একমাত্র ইতালিতে ধরা পড়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দায়ী ইতালি সরকার। প্রথমে ইতালির উত্তরে যখন সর্বপ্রথম এই ভাইরাস ছড়িয়ে ছিল, তখন যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করেনি সরকার উপরন্তু তারা করোনার সব সংক্রমণের খবর অস্বিকারও করে। তারপর দেশে যখন ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে তখন দেশের ওই অংশকে লকআউট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাও এই সোমবার। কিন্তু ততদিনে সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করে ফেলেছে। ইতালিতে করোনার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি পড়েছে লম্বার্ডি শহর। এ শহরে এমন কোনও বাড়ি নেই, যেখানে কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি! স্বাভাবিক ভাবেই হাসপাতালে বেডের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। টান পড়েছে চিকিৎসা সামগ্রীতেও।

এমন পরিস্থিতিতে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন সে দেশের চিকিৎসকরা। ইতালিতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রথম সারিতে থাকা চিকিৎসকরা বলছেন, এত রোগীর ভিড় বাড়ছে রোজ রোজ যে তারা দিশেহারা হয়ে পরছেন যে কাকে ছেড়ে কাকে বাঁচানোর চেষ্টা করবেন। তাই ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সের ব্যক্তিরা যদি প্রবল অসুস্থ হয়ে শ্বাসকষ্টে ভুগে ভর্তিও হতে আসেন, তাঁদের চিকিৎসকরা পরিষেবা দিতে পারছেন না। কারণ তার আগে অল্পবয়সি অসংখ্য মানুষ একই সঙ্গে এসে দাঁড়িয়েছেন চিকিৎসার জন্য।।

RELATED Articles

Leave a Comment