গোমূত্রপান প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। সাফ জানালেন, “গোমূত্র খেয়েছি, প্রয়োজনে আবার খাব। এতে সমস্যার কিছু নেই।” প্রসঙ্গত, কলকাতার বিজেপি নেতারা সোমবার জোড়াসাঁকোয় গোপুজো করে সাধারণ মানুষকে গোমূত্র পান করান গেরুয়া শিবিরের নেতারা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই দিলীপ ঘোষের এমন মন্তব্য। দিলীপবাবু আরোও জানিয়েছেন,
“গোমূত্র-গোবরের উপকারিতা কারও অজানা নয়। বিজেপি বিষয়টি নিয়ে প্রচার করছে বলেই তা নিয়ে এত কানাঘুষো হচ্ছে।”
দিলীপবাবুর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে চলছে জোর সমালোচনা। যেমন, এই মন্তব্যের পরই দিলীপ ঘোষকে উন্মাদ বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভুইঞা। মানসবাবু বলেন, “ওঁনার চিকিৎসার প্রয়োজন।” আবার, বিজেপির এই গোমূত্র পানের বিরোধিতা করেছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি পালটা বলেন, “ভারত প্রযুক্তি বিদ্যায় বিশ্বসেরা। সেই ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে গোমূত্র পান করিয়ে অবৈজ্ঞানিক বিষয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। আমার বিশ্বাস সাধারণ মানুষ কোনওভাবেই বিভ্রান্ত হবেন না। তাঁরা জানেন চিকিৎসা ছাড়া গোমূত্রের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসকে ঠেকানো সম্ভব হবে না।”
সম্প্রতি ‘বড় মাপের করোনা ভাইরাস রুখতে কাপড় দিয়ে বাড়িতে মাস্ক তৈরির’ দাওয়াই দিয়ে হাসির খোরাক হয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এই সমস্ত প্রসঙ্গ টেনে এনে গেরুয়া শিবিরকে আরোও কটাক্ষ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলুন “যে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা গরুর দুধে সোনা খোঁজেন, তাঁরা যে গোমূত্রে করোনা সারাবেন, সে বিষয়ে আশ্চর্যের কী আছে?” তবে চিকিৎসকরা যদিও গোমূত্র পান করানোর বিষয়টিকে নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, করোনাভাইরাসের কোনো ঔষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। সেখানে গোমূত্র পান করে কোনওভাবেই করোনা ভাইরাস রোখা সম্ভব নয়। বরং যিনি খাচ্ছেন বিবিধ সমস্যা হতে পারে। গোমূত্র থেকে কঠিন কোনও রোগ শরীরে বাসা বাঁধাও অবিশ্বাস্য কিছুই নয়।





