ঠিক যেন আরও এক রামলালাই দাঁড়িয়ে। সেই মূর্তির মতোই দেখতে এক সহস্র প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল কর্ণাটকের কৃষ্ণা নদী থেকে। প্রাচীন এক শিবলিঙ্গও মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। অনুমান, সুলতান শাসকদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই মূর্তিগুলি নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কীভাবে উদ্ধার হল মূর্তিগুলি?
স্থানীয় সূত্রে খবর, কর্ণাটকের রাইচুর জেলার দেবাসুগুর গ্রামের কাছে কৃষ্ণা নদীর উপর চলছিল সেতু নির্মাণের কাজ। সেই কাজ চলাকালীনই নদী থেকে ওই প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি ও শিবলিঙ্গ উদ্ধার হয়। মূর্তিতে পাথরের, মেটে রঙের। এই মূর্তি দেখতে হুবহু যেন অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রতিষ্ঠিত রামলালার মূর্তির মতোই।
কেমন দেখতে মূর্তিটি?
জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিষ্ণু মূর্তিটির চারপাশে একটি বলয় রয়েছে। তাতে কৃষ্ণের দশ অবতার খোদাই করা রয়েছে। অযোধ্যার রামলালা মূর্তিতেও এমনটাই রয়েছে। অন্যটি হল একটি শিবলিঙ্গ। এই মূর্তিগুলি ১০০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন হতে পারে বলে অনুমান। এই মূর্তিগুলি সবুজ মিশ্র শিলায় খোদাই করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ধরনের শিলা কল্যাণ চালুক্য যুগে ব্যবহার করা হত। ইতিমধ্যেই ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার আধিকারিকরা।

কী জানাচ্ছেঞ পদ্মজা দেশাই?
এই মূর্তি উদ্ধারের ঘটনায় প্রাচীন ইতিহাস এবং প্রত্নতত্ত্বের অধ্যাপক পদ্মজা দেশাই জানাচ্ছেন, এই উদ্ধার হওয়া মূর্তির চারধারে চারধারে খোদাই করা বিষ্ণু দশ অবতারের অস্তিত্ব যেমন খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, তেমনই এই মূর্তি তৈরির ধরন দেখেই মনে হচ্ছে, তা বহু প্রাচীন। এই মূর্তির চারপাশে মৎস্য, কুর্ম, বরাহ, নমসিমা, বামন, রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ এবং কলকি- এই দশটি অবতার রয়েছে। যা দেখতে অনেকটাই রামমন্দিরে প্রতিষ্ঠিত নয়া রামলালার মতো।
তাঁর কথায়, “কৃষ্ণা নদীর তলদেশ থেকে পাওয়া মূর্তিগুলি সম্ভবত একাদশ শতকের কল্যাণ চালুক্য রাজবংশের সময়ের। সম্ভবত, বাহমানি সুলতান ও আদিল শাহিদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য মূর্তিগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য, রায়চুরে অনেকগুলি রাজপরিবার শাসন করেছে। এই জায়গা ১৬৩টিরও বেশি যুদ্ধের সাক্ষী”।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের অনুমান, এই মূর্তি একাদশ বা দ্বাদশ শতাব্দীর তৈরি। আন্দাজ, এই মূর্তিও কোনও মন্দিরের গর্ভগৃহেই ছিল। হয়ত সুলতান হামলার থেকে মূর্তির রক্ষার জন্য মূর্তিগুলিকে নদীতে ভাসিয়ে দেওকা হয়েছিল।





