বিরোধীদের নোংরা রাজনীতির জের! ‘অগ্নিপথ’ বিতর্কের জেরে গোটা দেশ বিক্ষোভের আঁচ, ভারতের আগেই অন্যান্য দেশে চালু রয়েছে এই প্রকল্প

কেন্দ্র সরকারের তরফে ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প ঘোষণার পরই কার্যত গোটা দেশে আগুন জ্বলছে। নানান রাজ্যে ছড়িয়েছে বিক্ষোভের আঁচ। নানান প্রান্তে ভাঙচুর, ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো একাধিক হিংসার ঘটনা ঘটছে। এখনও এই বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনকারীরা।

বলে রাখি, সেনাবাহিনীর লোকবল অক্ষুন্ন রেখে আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রের তরফে নতুন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার নাম অগ্নিপথ। এর মাধ্যমে সেনায় অস্থায়ীভাবে চার বছরের জন্য কর্মী নিয়োগ করা হবে। এদের পোশাকি নাম হবে ‘অগ্নিবীর’। ১৭ বছর থেকে ২১ বছর পর্যন্ত বয়সীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে বিক্ষোভের জেরে চলতি বছরে ভর্তির সময়ে ২৩ বছরের যুবকরাও এই প্রকল্পের অংশ হতে পারবে।

কিন্তু কেন্দ্রের ঘোষিত এই অগ্নিপথ প্রকল্প গোটা দেশে সেনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র বিক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এভাবে অস্থায়ী পদে নিয়োগ নিয়ে অসন্তুষ্ট চাকরিপ্রার্থীরা। ইতিমধ্যেই দেশের নানান প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সেই বিক্ষোভের আঁচ বাংলাতেও পড়েছে।

তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত সরকারের নতুন এই প্রকল্প এক বড় উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে নতুন দিশা দেখানোর ক্ষেত্রে। কেন্দ্র বিরোধী নানান মানুষের স্রেফ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই ধ্বংসলীলায় মেতেছেন। ভুল পথে চালিত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকেও। শুধুমাত্র বিরোধীদের নোংরা রাজনীতির জেরেই কার্যত বর্তমানে গোটা দেশ ভুগছে।

কেন্দ্র সরকারের তরফে এও জানানো হয়েছে যে সাধারণ যুবকরা মেডিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্ম যদি সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ নেয় ও সেনার আচার-আচরণ পালন করে, তাহলে তা তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ও তাদের ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করবে।

শুধুমাত্র ভারতই নয়, এর আগে অন্যান্য অনেক দেশেই এই ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের মতো প্রকল্প এনে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়ে থাকে। অনেক আগেই নানান দেশে এমন পদ্ধতি শুরু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছর চীনা সেনায় ৪.৫ লক্ষ নিয়োগ হয়। চীনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতী রয়েছে, সেই কারণে সেখানে দু’বছরের জন্য সেনায় নিয়োগ করা হয়। তাদের প্রশিক্ষণ শেষ হলে তাঁদের মধ্যে থেকে পূর্ণ সময়ের জন্য নিয়োগ করা হয়। যারা ২ বছর পর অবসর নেন, তাঁদের খুব কম সুদে ঋণ দেওয়া হয় বলেও জানা গিয়েছে।

এমনকি, মার্কিন সেনাবাহিনীতেও এই অস্থায়ী সেনা নিয়োগের রীতি রয়েছে। সেখানে এই অস্থায়ী সেনাদের নিয়োগ করা হয় চার বছরের জন্য। সেই সেনারা অবসর নিলেও পরে তারা পূর্ণ মেয়াদের চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন, এমন ব্যবস্থাও রয়েছে সে দেশে। ২০ বছর যদি চাকরি করা যায়, তাহলে পেনশন-সহ আরও নানান সুযোগ-সুবিধা মেলে তাদের।

রাশিয়াতেও রয়েছে এমন ধরণের প্রকল্প। সে দেশে এক বছরের জন্য যুবকদের রুশ সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারপর এক বছরের জন্য তাদের অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয়। সেই মেয়াদ শেষ হলে তারা পূর্ণ মেয়াদের জন্যও আবেদন করতে পারেন।

শুধু তাই-ই নয়, ইজরায়েলে এমন নিয়ম বাধ্যতামূলক রয়েছে যে প্রত্যেক পরিবার থেকে একজনকে অন্তত সেনাবাহিনীতে যোগ দিতেই হবে। এক্ষেত্রে যুবকদের ৩২ মাস ও যুবতীদের ২৪ মাসের জন্য অস্থায়ী নিয়োগ করা হয়। যে কোনও সময়, যে কোনও প্রয়োজনে ইজরায়েলি সরকার তাদের কাজে লাগাতে পারে। তাদের মধ্যে থেকে ১০ শতাংশ যুবক-যুবতীকে ইজরায়েল সেনাবাহিনীতে পাকাপাকিভাবে নিয়োগ করার নিয়মও রয়েছে।

RELATED Articles