রাণাঘাট জেলা তৃণমূল সভাপতি প্রমথরঞ্জন বসুর বিরুদ্ধে ধ’র্ষ’ণের চেষ্টার অভিযোগ আনলেন তাঁরই পুত্রবধূ। তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এই বিষয়ে হাঁসখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ধ’র্ষ’ণের চেষ্টার পাশপাশি পণের দাবীতে পুত্রবধূর উপর অত্যাচার করার অভিযোগও রয়েছে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে ২৩শে মে। প্রমথরঞ্জনের পুত্রবধূর অভিযোগ, তাঁর শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে পণের জন্য নিয়মিত নির্যাতন করা হয়। তিনি জানান যে একদিন তিনি যখন ঘরে শুয়েছিলেন, সেই সময় আচমকাই তাঁর শ্বশুরমশাই তাঁর মুখ চেপে ধরেন। পুত্রবধূ জানান যে যে তাঁকে ধ’র্ষ’ণের চেষ্টা করেন তাঁর শ্বশুর। তবে তিনি কোনওরকমে ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
ওই নির্যাতিতা পুলিশকে জানান যে ১০ বছরে আগে তৃণমূল নেতার ছেলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এরপর থেকেই পণের দাবীতে শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। এক সময় সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি বিচ্ছেদের কথাও ভেবেছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি।
তৃণমূল নেতার পুত্রবধূ এও জানান যে তিনি যখন বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়ে শ্বশুরবাড়িতে জানান, তখন অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। গত ১৭ই জানুয়ারি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে নিজের বাড়ি ফিরে আসেন ওই নির্যাতিতা। কিন্তু তাঁকে বুঝিয়ে ফের শ্বশুরবাড়ি নিয়ে আসেন তৃণমূল নেতার ছেলে। তারপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এরপরই আচমকা শ্বশুরমশাইয়ের হাতে আক্রান্ত হন তিনি।
তবে তৃণমূল নেতা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুত্রবধূকে ‘ওই মহিলা’ সম্বোধন করে প্রমথরঞ্জনবাবু বলেন, “ওর ডিভোর্সের মামলা চলছে। ওর পরিবার বিজেপি করে। আমার রাজনৈতিক জীবনকে কালিমালিপ্ত করতে এই চক্রান্ত”।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতার নামে অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি সংসদ জগন্নাথ সরকার পাল্টা বলেন, “এই ঘটনা আবার স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তৃণমূল নেতাদের হাতে মা-বোনেরা সুরক্ষিত নয়। সন্তানসমা বৌমার যদি এই অবস্থা হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন”।





