দেশকে পুনরায় স্বাভাবিক করে তুলতে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে আনলক পর্ব-১। কিন্তু এই পর্বে হু হু করে বেড়েই চলেছে করোনার দাপট। বিশ্বস্তরে করোনা বিধস্ত ৫টি দেশের মধ্যে অবস্থান করছে ভারত। লকডাউনের পরেও করোনা পরিস্থিতির এহেন অবনতিতে চিন্তিত প্রধানমন্ত্রী। ভারতে এই সংক্রমনকে কিছুতেই লাগাম লাগানো যাচ্ছে না। বরং দিনে দিনে আরো ভয়ঙ্কর হচ্ছে পরিস্হিতি। তাই শনিবার একটি পর্যালোচনা বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ হর্ষবর্ধন, প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পি কে সিনহা, মন্ত্রিপরিষদের সচিব রাজীব গৌড়া, স্বাস্থ্যসচিব প্রীতি সুদান এবং আইসিএমআর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গত দু’মাসের অতিমারি পরিস্থিতির পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে জরুরিভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। বৈঠকে মোদি বলেন, দেশজুড়ে ৩ মাস ব্যাপী লকডাউনের পরেও করোনা সংক্রমণের রাশ টানা যায়নি। এখন যে সমস্ত রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব বেশি, সেগুলি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় এনআইটিআই-এর সদস্য এবং মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানের শীর্ষ আধিকারিক বিনোদ পালের মতো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে মোট সংক্রমণের দুই-তৃতীয়াংশ এসেছে পাঁচটি রাজ্য থেকে। আর রাজ্যগুলির বড় শহরগুলিতেই সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব সবথেকে বেশি রয়েছে। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যগুলোর হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা এবং করোনা পরীক্ষা বৃদ্ধির ব্যবস্থাগুলি প্রয়োজন রয়েছে।
আগামী ১৬ ও ১৭ই জুন দুই দফায় বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ফের বৈঠক বসবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৭ই জুন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। দেশজুড়ে প্রতিটি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি এবং বাড়তে থাকা সংক্রমণের হার নিয়ে আলোচনা হবে বৈঠকে। পাশাপাশি এই সংক্রমন রুখতে ফের লকডাউন প্রয়োজন কিনা তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীদের থেকে মতামতও চাইবেন প্রধানমন্ত্রী।





