‘ভারত যা বলে তা করে দেখায়’, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে আবারও আত্মনির্ভর হওয়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

করোনা আবহের মধ্যেই ভারতের ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবস পালন হচ্ছে। রাজঘাটে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে, দিল্লির লালকেল্লায় ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে লালকেল্লায় আমন্ত্রিত ছিলেন প্রায় ৪ হাজার অতিথি।

পতাকা উত্তোলনের পর দিল্লির লালকেল্লা থেকেই প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সপ্তমবারের জন্য এই ভাষণ দিলেন। করোনার করালগ্রাসে যখন সারাবিশ্ব কম্পিত, সেই সময় স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে নরেন্দ্র মোদি কি ভাষণ দেন সেটার জন্যই অপেক্ষায় ছিল আপামর ভারতবাসী। স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রীর এদিনের ভাষণের বেশিরভাগ অংশ জুড়েই ছিল করোনা পরিস্থিতি। তিনি প্রথমেই কোভিদ যোদ্ধাদের প্রণাম জানিয়েছেন, করোনার এই আবহে যারা সমানে লড়ে যাচ্ছেন। এই বিষয় নিয়ে নরেন্দ্র মোদী তার ভাষণে বলেন- “আমরা এক অদ্ভুত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই মহামারীর আতঙ্কে আজ আমরা লালকেল্লার স্বাধীনতার অনুষ্ঠানে কোন শিশুকে দেখতে পাচ্ছি না। পুরো জাতির পক্ষ থেকে আমি সমস্ত করোনা যোদ্ধাদের তাদের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। স্বাস্থ্যকর্মী থেকে চিকিৎসক এবং নার্সরা প্রত্যেকেই জাতির সেবায় অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।”

এই কোভিড ১৯ নামক অতিমারীর সময়েই ১৩০ কোটি ভারতবাসীর স্বনির্ভরতা ও আত্মনির্ভর করে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী যা এখন অনেকটাই বাস্তবায়িত। তাই স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবারও ভারতবাসীর আত্মনির্ভর হওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এই করোনা পরিস্থিতিতে অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমি জানি, “১৩০ কোটি ভারতীয়দের সংকল্পকে পাথেয় করে আমরা এই সংকটকে হারাবোই।”

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান যাদের কারণে আজ আমরা স্বাধীন ভারতে বসবাস করছি। এরই সাথে তিনি ভারতীয় সেনাদের প্রতিও তার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি বলেন, “সমস্ত দেশবাসীকে শুভকামনা ও অভিনন্দন। স্বাধীন ভারতে আজ আমরা নিঃশ্বাস নিচ্ছি।স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহিদদের প্রণাম জানাই। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত সবাইকে প্রণাম। শ্রী অরবিন্দ’র জন্মজয়ন্তীতে তাঁকেও স্মরণ করছি।”

এছাড়াও তিনি তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্পের গুণাগুণের কথাও বলেন। যদিও এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের চিত্র অন্যান্য বছরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর কখনও এত নিঃশব্দে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়েছে বলে জানা যায়নি। দিল্লির লালকেল্লাতেও স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য কঠোর সামাজিক দূরত্ব ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে যারা যোগ দিয়েছিলেন তারা সকলেই করোনা বিধি মেনে চলেছেন। আশা করা যায়, আগামী বছর করোনার গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে ভারত আবার আগেরমতো আগ্রহ সহকারে স্বাধীনতা দিবস পালন করতে পারবে।

প্রতিবেদনটি লিখেছেন – অন্তরা ঘোষ

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles

Leave a Comment