১০০ কোটি করোনা টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে ভারত। এই উপলক্ষ্যে আজ, শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন তিনি ফের সতর্ক করেন যে মাস্ক পরতেই হবে। টিকাকরণ হয়ে গেলেও মাস্ক পরা জরুরি। এদিন তিনি এও বলেন যে এই ১০০ কোটি টিকাকরণ ভারতের দিকে ওঠা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।
আর কী কী বললেন প্রধানমন্ত্রী, দেখে নেওয়া যাক-
আশার আলোঃ আজ আশার আলো দেখছে দেশ। নানান বিদেশি সংস্থা ভারতের অর্থনীতি নিয়ে বেশ আশাবাদী। দেশের সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ আসছে। আর এরে জেরে বাড়ছে রোজগার। সরকার প্রচুর ফসল কিনছে। কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢুকছে। উৎসবের মরশুমে দেশ আরও এগোবে।
সব প্রশ্নের জবাবঃ ভারত যে গতিতে ১০০ কোটি টিকাকরণের গণ্ডি পার করেছে, তার প্রশংসা করছে গোটা দুনিয়া। আগে বেশিরভাগ টিকা আসত বিদেশ থেকে। এই কারণে অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল যে এই অতিমারিতে কী হবে? ভারতের এত মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে তো? এত টাকা কোথা থেকে আসবে? কিন্তু আজ এই ১০০ কোটি টিকাকরণ সবকিছুর জবাব দিয়েছে।
ভিআইপি কালচার বর্জন: টিকাকরণের এই রেকর্ড ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াসের’ সঠিক উদাহরণ। ভারতের মতো গণতন্ত্রে অনুশাসন বজায় রাখা কঠিন হবে বলে দাবী করছিলেন অনেকেই। কিন্তু আমাদের গণতন্ত্রের লক্ষ্যই হল, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলা। টিকাকরণ অভিযান ভিআইপি কালচার মেনে হয়নি। যে যতই ভিআইপি হোক বা বড়লোক হোক। সকলকেই টিকা নিতে হয়েছে সাধারণ মানুষের মতো। আর এটাই এই সাফল্যের চাবিকাঠি।
মেড–ইন–ইন্ডিয়ায় জোর: মেড-ইন-ইন্ডিয়ার শক্তি কতটা তা দেশবাসী বুঝতে পারছে। তাই আজ আমি আপনাদের বলব, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মেড-ইন-ইন্ডিয়া পণ্য কিনুন। ভারতবাসী নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যেসব জিনিস তৈরি করেছেন, সেই সব পণ্য কিনুন। আজ যদি আমার দেশের টিকা আমাকে সুরক্ষা দিতে পারে তাহলে আমার দেশের তৈরি জিনিস, আমাদের দীপাবলি আরও সুন্দর করতে পারবে।
বিশ্বের দরবারে ভারতের গুরুত্ব বাড়লঃ গোটা বিশ্ব এখন ভারতকে করোনার থেকে আরও সুরক্ষিত বলে মেনে নেবে। ভারতকে যে বিশ্বের মেডিক্যাল হাব বলা হত, তা আরও বেশী করে প্রতিষ্ঠা হল।
বিজ্ঞান নির্ভর টিকাকরণ: ভারতের পুরো টিকাকরণ অনুষ্ঠান বিজ্ঞান নির্ভর, বিজ্ঞানের দান এবং বিজ্ঞান থেকেই জন্ম নেওয়া। টিকা তৈরি থেকে টিকাকরণের পুরো প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞান যুক্ত আছে।
সতর্ক থাকার পরামর্শ: দেশ বড় লক্ষ্য নির্ধারণ এবং অর্জন করতে জানে। কিন্তু এখনও অসাবধান হওয়া একাবারেই চলবে না। আমার অনুরোধ, উৎসবের মরশুমে পুরোপুরি সতর্ক থাকেন। আমার একটাই বক্তব্য, মাস্ক পরাটা আমাদের অভ্যেস করে ফেলতে হবে। যারা এখনও টিকা পাননি, তাঁরা এটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন। যারা টিকা পেয়েছেন তাঁরা অন্যদের উৎসাহ প্রদান করুন।





