পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যে। বিহারের পাটনায় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের স্বাগত জানানো হচ্ছে ভোট ব্যাঙ্ক তৈরির জন্য। সেই মন্তব্য ঘিরেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরঙ্গ।
অমিত শাহ বলেন, “অনুপ্রবেশকারীরা প্রথমে কোথায় যায়? কোনও গ্রামেও যদি নতুন ২৫ জন আসে, তা কি পুলিশের বা জমি অফিসারের অজানা থাকবে?” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে অনুপ্রবেশ সম্ভব হচ্ছে কারণ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নির্দেশই থাকে তাদের লাল কার্পেটে স্বাগত জানাতে। বিজেপি নেতা আরও বলেন, গুজরাট, রাজস্থান বা অসমে অনুপ্রবেশ হয় না, কারণ সেখানে বিজেপি সরকার রয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে শাহ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে ভাবেন।” তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল সরকার সংবিধানের নিয়ম মানে না এবং কেবল ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত। তিনি আরও বলেন, মমতা সরকার না গেলে রাজ্য কখনও অনুপ্রবেশমুক্ত হবে না। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এলে এই সমস্যার সমাধান হবে।
আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অমিত শাহের এই বার্তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “গুজরাট, রাজস্থান থেকে অনুপ্রবেশ হয় না, কারণ সেখানে বিজেপি আছে। বাংলার ভোটারদের বলব—যদি অনুপ্রবেশ রুখতে চান, দিদির সরকার ফেলে দিন, আমরা অনুপ্রবেশ বন্ধ করে দেখাব।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে বাংলার ভোটারদের কাছে সরাসরি আবেদন রাখলেন শাহ।
আরও পড়ুনঃ Raju Bista: মনোজ-শঙ্কর-খগেনের পর রাজু! পাহাড়ে ফের বিজেপি সাংসদের উপর হামলা, তৃণমূলের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে!
অনুষ্ঠানে শাহ আরও জানান, দেশের সীমান্তে নজরদারি করাটা সহজ নয়। নদী, পাহাড় ও জঙ্গল ঘেরা সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “দিল্লিতে বসে বলা যায় না সীমান্ত কেমন—একবার গিয়ে দেখুন। বর্ষার সময় গঙ্গা এমনভাবে বইতে থাকে যে নজরদারি বোটও ভেসে যায়।” তবে তাঁর সাফ বার্তা, অনুপ্রবেশ রুখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই আসল, আর তৃণমূল সরকারের সেই সদিচ্ছা নেই।





