কংগ্রেসের থেকে পথ আলাদা হওয়ার পর এবার সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন প্রশান্ত কিশোর। কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে ও পরে তাঁর মত পাল্টায় নি। কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করার আগেও তিনি বলেছিলেন যে কোনও তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ে বিজেপিকে হারানো সম্ভব নয়। আর কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার পরও তিনি সেটাই বললেন। তাঁর ইঙ্গিত, বিজেপিকে হারাতে গেলে দ্বিতীয় ফ্রন্ট দরকার আর সেই দ্বিতীয় ফ্রন্টের জন্য কংগ্রেসকে প্রয়োজন।
কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর স্পষ্ট বলেন যে তাঁর বিশ্বাস কোনও তৃতীয় বা চতুর্থ ফ্রন্ট বিজেপিকে হারাতে পারবে না। বিজেপিকে হারাতে হলে দ্বিতীয় কোনও ফ্রন্ট গড়তে হবে পিকে-কে প্রশ্ন করা হয় যে তাহলে কী তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরিতে সাহায্য করছেন?
এর জবাবে পিকে বলেন, “আমি এতটাও বোকা নই যে, তৃতীয় ফ্রন্ট গড়তে সাহায্য করব। কোনও তৃতীয় বা চতুর্থ ফ্রন্ট বিজেপিকে হারাতে পারবে না। এসব সংবাদমাধ্যমের পছন্দের কথা। বিজেপিকে হারাতে হলে অবশ্যই সেই ফ্রন্টকে দ্বিতীয় ফ্রন্ট হতে হবে”।
এই দ্বিতীয় ফ্রন্ট কী তবে কংগ্রেস হতে চলেছে? এই নিয়ে পিকে-র উত্তর, “কংগ্রেস একা তো কোনও ফ্রন্ট নয়, তবে কংগ্রেস নিঃসন্দেহে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল”।
কংগ্রেস প্রসঙ্গে পিকে স্পষ্ট জবাব, “দেশের জন্য শক্তিশালী কংগ্রেসের প্রয়োজন। শুধু আমি না, কট্টর বিজেপি সমর্থকরাও জানেন কংগ্রেসের শক্তিশালী হওয়াটা গোটা দেশের জন্য ভালো”।
কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে যে কংগ্রেস যদি এতটাই ভালো হয়, তাহলে তিনি নিজে কংগ্রেসে কেন যোগ দিলেন না? প্রশান্ত কিশোরের কথায়, তিনি কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন, তা কংগ্রেস কমিটি অনেকটাই মেনে নিয়েছে।
তিনি জানান যে এই নিয়ে যে বিস্তারে আলোচনা হয়েছে, তার জন্য তিনি আপ্লুত। কিন্তু এই ব্লু প্রিন্টকে বাস্তাবায়িত করতে কংগ্রেস যে পদ্ধতি অবলম্বন করতে চাইছে, তাতে তিনি পুরোপুরিভাবে ভরসা করতে পারেন নি। তাহলে কী কংগ্রেস ও প্রশান্ত কিশোরের পথ আলাদা? পিকে-র কথায়, তিনি আগামীদিনে রাজনীতিবিদ হিসেবেই কাজ করতে চান, তবে কীভাবে আর কোন পদে, তার ইঙ্গিত তিনি দেবেন আগামী ২রা মে।





