জেডিইউ সুপ্রিমো নীতিশ কুমারের সঙ্গে পিকে-র মনোমালিন্য শুরু হয়েছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছায় যে দলের সহ-সভাপতির পদ থেকে বহিস্কৃত করা হয় প্রশান্ত কিশোরকে। কিন্তু বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কী পুনরায় দলে ফিরতে চলেছেন পিকে? স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পিকে জানিয়েছেন, ‘আমার সঙ্গে নীতিশ কুমার এর সম্পর্ক খুবই ভাল। আমি তাঁকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করি।’ এমনকি ভবিষ্যতে নীতিশ কুমারের সিদ্ধান্তের তিনি কোনও বিরোধিতা করবেন না বলেও জানিয়েছেন। আর তাতেই চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এমনকি বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বিহারকে দশটি প্রথম শ্রেণীর রাজ্যের তালিকায় আনার চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। সেজন্য আগামী ২০ ফেব্রুয়ারী থেকে ‘বাত বিহার কি’ নামে একটি অনুষ্ঠান চালু করবেন বলেও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে আম আদমি পার্টি বা তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দিতে পারেন প্রশান্ত কিশোর এহেন গুঞ্জনও শুরু হয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়। সেই দিকের রাস্তাও কার্যত খোলা রেখেছেন তিনি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির মুখ্য রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূল কংগ্রেস-এর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হয়ে তিনি আপাতত কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছে আম আদমি পার্টি। কিন্তু এখনও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, এনআরসি নিয়ে কোনও বক্তব্য জারি করেননি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার। কিন্তু তাঁদের হয়ে প্রশান্ত কিশোরকে এদিন বলতে শোনা গেল, ‘দিল্লিতে আম আদমি পার্টির সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসি কোনটাই জারি করবে না।’
একই সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রশান্ত কিশোরের এই দুদিকেই পথ খোলা রাখার চেষ্টাতেই ভুরু কুঁচকেছে অনেকের। কোন দিকে যেতে চান পিকে! তা নিয়ে এখনও ধন্দ কাটেনি। তবে সরাসরি রাজনীতিতে থাকার জন্য তিনি যে উভমুখী রাস্তা নিচ্ছেন, তা কার্যত এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।





