নেতৃত্বের অভাবে একেই জর্জরিত দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল জাতীয় কংগ্রেস। এর মধ্যে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া দল ছেড়ে দিয়ে বিপদ বাড়িয়েছেন। কিন্তু আসল বিপদ এখনও ঢুকে রয়েছে কংগ্রেসের মধ্যেই। তা হল নব্য ও আদির দ্বন্দ্ব। কংগ্রেসে সেসব পাকা চুলের নেতা রয়েছেন তারা কিছুতেই নবাগতদের জায়গা ছাড়ছে নারাজ। সেই দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। কিন্তু সিন্ধিয়া পরিবারের রাজপুত্র দল ছেড়ে বেরিয়ে আসায় তা জনসমক্ষে প্রকট হয়েছে। ফলে যে যুব নেতারা এখনও কংগ্রেসে টিকে রয়েছেন, তাদের ধরে রাখাই রাহুল-সনিয়াদের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ এই মুহূর্তে। আরেকটু খোলসা করে বলা যায়, সিন্ধিয়া দল ছাড়ার পর সবথেকে বেশি যাঁকে নিয়ে কথা হচ্ছে, অর্থাৎ শচীন পাইলটকে আটকে রাখাই এবার কংগ্রেসের পাখির চোখ।

সিন্ধিয়ার দলত্যাগ নিয়ে একে একে প্রত্যেকেই নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে সবার চোখ যার দিকে, সেই শচীন পাইলট মুখ খোলেন সবার শেষে। নিজের দল বা সিন্ধিয়া, কারোরই সমালোচনার পথে না হেঁটে কারণ অনুসন্ধানের পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। টুইটারে শচীন লেখেন, ‘কংগ্রেসের থেকে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার আলাদা হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। সমস্যাগুলো দলের ভিতরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা গেলে ভালো হত।’
মধ্যপ্রদেশে যেমন কমলনাথকে মুখ্যমন্ত্রীত্ব দিয়ে জ্যোতিরাদিত্যকে চূড়ান্ত উপেক্ষা করা হয়েছিল, একই ভাবে শচীন পাইলটের মাথার উপর আছেন অশোক গেহলৌট। শচীন নিজে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার কিন্তু কংগ্রেসের দলীয় নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রীত্ব দিলেন গেহলোটের হাতে। নিজের টুইটের মাধ্যমে শচীন কি এটাই বোঝাতে চাইলেন যে, তিনিও জ্যোতিরাদিত্যর মত একই বঞ্চনার শিকার?
তিনিও কি তাহলে জ্যোতিরাদিত্যর দেখানো পথেই হাঁটবেন? উত্তর তো সময় বলবে..





