অনেক শিশুই বেড়ে ওঠে সুখের ছায়ায়, কিন্তু কিছু শিশুর শৈশব হয় যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি। বাবার গলা ফাটানো চিৎকার, মায়ের চোখে জমে থাকা অশ্রু আর নিরব কান্না—এই সবই যখন নিত্যদিনের অভ্যেস হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই শিশুর মনেও বয়ে চলে ঘূর্ণিঝড়। প্রতিদিন অশান্তির শব্দে জেগে ওঠা, সন্ধ্যায় মা-বাবার ঝগড়ায় ভয় পাওয়া, সব মিলিয়ে ভাঙা সংসারের ভিতরেই কেটে যায় শৈশব। কিন্তু এমনই এক শিশুর বলা সত্য এক ভয়ঙ্কর ঘটনার পর্দাফাঁস করল বছর পাঁচেক পরে।
ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখি—মিথ্যে বলা ভালো নয়। কিন্তু বড় হতে হতে জীবনের চাপে কখনও কখনও মিথ্যে আমাদের অজান্তেই ঢুকে পড়ে। তবু কারও কারও মন থেকে এই শিক্ষাটা মুছে যায় না। যেমন এক সাত বছরের শিশুর হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল—“কখনও মিথ্যে বলা যায় না।” তাই সে ভয় না পেয়ে জানিয়ে দিল আদালতে—সে যা দেখেছে, তাই বলবে। নিজের মায়ের মৃত্যু নিয়ে সত্যি বলে ফেলল এমন কিছু, যা বদলে দিল গোটা মামলার গতিপথ।
২০২০ সালের জুলাই মাসে এক মহিলার ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা রাকেশ সিকরওয়ার নামের এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর পরিবারে ঘটে। স্ত্রী অনুরাধা সিকরওয়ারের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন স্বামী। কিন্তু সেই সময় ঘরে থাকা একমাত্র সাত বছরের পুত্র একটুও ভয় না পেয়ে আদালতে জানায়, “ছাদ থেকে মাকে ফেলে দিয়েছিল বাবা আর ঠাকুরমা।” শিশুটির এই সাহসিক বয়ানের ভিত্তিতে মামলাটি খুন হিসেবে চিহ্নিত হয়।
আদালতে ওই শিশুর দেওয়া বিবরণে উঠে আসে, কী ভাবে নিয়মিত বেল্ট দিয়ে মাকে মারতেন বাবা, কীভাবে ঘরের দরজা বন্ধ করে নির্যাতন চালাতেন তিনি ও ঠাকুরমা। অনুরাধার দেহে পাওয়া আঘাতের চিহ্নের সঙ্গে মেলে যায় ওই বয়ান। সরকারি আইনজীবী জানান, বিয়ের পর থেকেই অনুরাধার উপর চলত নির্যাতন, যার মূল কারণ ছিল পণের দাবি। মৃত্যুর আগে তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছিল, তারপরই ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ Weather update: উত্তরে বজ্র-বৃষ্টির তাণ্ডব, আর দক্ষিণে তাপপ্রবাহের থাবা! এপ্রিলের মাঝেই তপ্ত বাংলার দুই মেরু!
সাত বছরের সেই শিশুর বিবরণ ও ফরেন্সিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে রাকেশ সিকরওয়ার ও তাঁর মাকে। দু’জনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারক ছেলেটির সঙ্গে কথা বলে বোঝেন, সে সত্য-মিথ্যার তফাৎ বোঝে এবং তার বয়ান বিশ্বাসযোগ্য। অবশেষে মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রে ঘটে যাওয়া সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটে ছোট্ট একটি মনের সাহসে।





