রোদ উঠলেই যেন এখন বুক ধড়ফড় করে ওঠে শহরবাসীর। সকাল গড়াতেই মাথার উপর চেপে বসে আগুনঝরা রোদ, আর দুপুরবেলা ঘর থেকে বেরনো মানে যেন নিজের শরীরটাকেই ঝলসে ফেলা। কেউ অফিসে ছুটছে, কেউ দোকানে—একটানা ঘেমে একেবারে ক্লান্ত সবাই। সাম্প্রতিক বৃষ্টির পর যখন একটু স্বস্তি এসেছিল, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন বুঝি গরমটা কিছুটা কমল! কিন্তু তা যেন ছিল অস্থায়ী এক স্বপ্নমাত্র।
যে ভাবে বাড়ছে রোদের তেজ, তাতে বাইরে কাজ থাকা মানুষের কষ্টটা আরও বেড়েছে। হাটবাজারে ভিড় কমেছে, দুপুরে রাস্তাঘাটে যান চলাচলও তুলনায় কম। শহরের অলিগলিতে বাতাস নেই বললেই চলে, আর দুপুরবেলা রোদের তাপে যেন ঝাঁ ঝাঁ করছে চারদিক। অনেকেই মুখে বলছেন—”বসন্ত তো কবে চলে গেছে, এখন তো বৈশাখের মতো গরম!” আসলে মার্চের শেষ থেকেই যে গরম শুরু হয়েছিল, তা মাঝেমধ্যে বৃষ্টির জেরে খানিকটা থিতিয়ে গেলেও, ফের সেই আগুন ঝরানো দিনগুলিই ফিরছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই বৃষ্টির আর সম্ভাবনা নেই। বরং, এই সপ্তাহের মধ্যেই তাপমাত্রা অন্তত চার থেকে ছ’ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে অনুমান। রবিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি, কিন্তু এটাই শেষ নয়—পরবর্তী দিনে তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে বলেই পূর্বাভাস। এই বৃদ্ধি যদি স্থায়ী হয়, তাহলে গরমের দাপট ফের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলবে।
দক্ষিণবঙ্গ যখন রোদের তাপে পুড়তে বসেছে, ঠিক তখন উত্তরবঙ্গে আশার কিছুটা আলো দেখাচ্ছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। সোমবার এবং মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলায় মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে বৃষ্টির পরিমাণ একটু বেশি হতে পারে। যদিও বৃষ্টির দাপট দক্ষিণে এসে পৌঁছবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Astrology: এই তিন রাশির ভাগ্য বদলে দেবে সূর্য-বৃহস্পতির মিলন! এপ্রিলের শেষেই খুলে যাবে সম্মান ও সুখের দরজা?
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় গরম ফের তীব্র হতে চলেছে, এবং সেই সঙ্গে বাড়বে হাঁসফাঁস অস্বস্তি। এমনকি কোথাও কোথাও গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম—এই জেলাগুলিতে অল্পবিস্তর বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, তা কোনওভাবেই গরমের দাপটকে থামাতে পারবে না বলেই আশঙ্কা। কলকাতার বাসিন্দাদের আগামী দিনে আরও গরমের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হচ্ছে। বিশেষত যাঁরা দীর্ঘ সময় রোদে বাইরে থাকেন—তাঁদের জন্য পরামর্শ, পর্যাপ্ত জলপান করুন, ছাতা বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং যতটা সম্ভব সুরক্ষিত থাকুন।





