জ্ঞানবাপী মসজিদের জলাশয়ে মিলল শিবলিঙ্গ। তিনদিনের ভিডিওগ্রাফির পর এমনটাই দাবী করলেন এক আইনজীবী। সেই জলাশয়কে আপাতত সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ আদালত। ওই এলাকায় কারোর ঢোকা বা ওই জলাশয় ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে আপাতত।
আদালতের নির্দেশেই বারাণসীর এই মসজিদে তিনদিন ধরে ভিডিওগ্রাফি চলছিল। সেই ভিডিওগ্রাফিতে দেখা যায় যে মসজিদের অন্দরের জলাশয়ে যেখানে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ওজু করতেন, সেখানেই রয়েছে একটি শিবলিঙ্গ। এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শেষদিনের ভিডিওগ্রাফি শুরু হয়।
এদিন জলাশয়ের ভিডিওগ্রাফির জন্য সমস্ত জল বের করে দেওয়া হয়। আর তখনই ধরা পড়ে শিবলিঙ্গের উপস্থিতি, এমনটাই দাবী করা হয়েছে। এই তথ্য আদালতে জানান আইনজীবী বিষ্ণু জৈন। আর এরপরইজলাশয়টি সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বারাণসীর জেলাশাসক কৌশলরাজ শর্মাকে ওই জলাশয়টি ঘিরে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় আদালতের তরফে। এই জলাশয়টি জাতেব কেউ আপাতত ব্যবহার না করে, সেদিকে লক্ষ্য ক্রাখতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে মা শৃঙ্গার গৌরীস্থলে পুজো করার জন্য পাঁচ মহিলা আবেদন জানিয়েছিলেন। একবছর ধরে প্রার্থনার জন্য ওই স্থানটি খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই মহিলাদের আর্জি ছিল পুরনো মন্দির চত্বরে অন্যান্য দেবদেবীদের সামনেও যাতে প্রার্থনা করা যায়। এই বিষয়ে গত এপ্রিলে একটি তদন্তের নির্দেশ দেয় বারাণসী আদালত।
কিছুদিন ধরেই এই কারণে মসজিদের ভিতরে ভিডিও সার্ভের কাজ চলছিল। তবে এই সার্ভে নিয়ে আপত্তি জানান মসজিদ কমিটির সদস্য ও তাদের আইনজীবীরা। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় মসজিদ কমিটি। আগামীকাল, মঙ্গলবার সেই আবেদনের শুনানি রয়েছে।
বলে রাখি, কাশী বা বারাণসীর বিখ্যাত বিশ্বনাথ মন্দিরের গায়েই রয়েছে জ্ঞানবাপী মসজিদ। ১৬৬৯ সালে মূল মন্দিরটি দখল করে মুঘল বাদশাহ ঔরঙ্গজেব জ্ঞানবাপী মসজিদ তৈরি করেন। এখনও মসজিদের দেওয়ালে হিন্দু দেবদেবীর ছবি রয়েছে। অষ্টাদশ শতকে হিন্দুদের আবেগের কথা মাথায় রেখেই মারাঠা রাজ্য মালওয়ার রানি অহল্যাবাই হোলকার মসজিদের কাছেই আজকের বিশ্বনাথ মন্দিরটি তৈরি করেন।





