ইট মারলে পাটকেল খেতেই হবে। বিজেপির এই একটাই নীতি। সে বাংলার আঞ্চলিক রাজনীতি হোক বা দিল্লির সর্বভারতীয় রাজনীতি, চুপ করে থাকা স্বভাব নয় গেরুয়া শিবিরের। আর তাই কেন্দ্রের বিতর্কিত কৃষি আইনকে নিয়ে ফের সরগরম জাতীয় রাজনীতি।
রাহুল গান্ধী’র ‘গণতন্ত্র’ মন্তব্যের জন্য এবার কংগ্রেস নেতাকে কটাক্ষে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দাবি করলেন, দিল্লির কিছু মানুষ তাঁকে গণতন্ত্রের শিক্ষা দিতে আসে, আর তারাই নিজেদের দখলে থাকা রাজ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুরভোটের আয়োজন করে না। ওঁদের ছল এবং কপটতা দেখলে অবাক হতে হয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গণতন্ত্র নিয়ে নতুন এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার।
কেন্দ্রের লাগু করা নতুন কৃষি আইনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপতির কাছে দু’কোটি মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি ডেপুটেশন জমা দিতে যাচ্ছিল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। দিল্লির বিজয়চক থেকে কংগ্রেসের সব সাংসদ এবং কয়েকজন শীর্ষ নেতা মিছিল করে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রাজধানীর পুলিশ তাঁদের রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। আর এরপরই ঝামেলা চরমে পৌঁছায়। কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা পুলিশের বারণ না শুনলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ বেশ কয়েকজন কংগ্রেস সাংসদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন সোনিয়া পুত্র। বলেন, “দেশে গণতন্ত্র নেই। যাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁরাই সন্ত্রাসবাদীর তকমা পাবেন। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও যদি মোদীর বিরোধিতা করেন, তবে তাঁকেও জঙ্গি বলা হবে।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য করোনা থেকে চীন একাধিক ইস্যুতে চলতি বছরে নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেছেন রাহুল।
কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতির এহেন ‘গণতান্ত্রিক’ মন্তব্যে গেরুয়া শিবিরের বহু নেতা রাহুলকে কটাক্ষ করলেও এতদিন নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এবার আর চুপ করে থাকলেন না, পাল্টা জবাব ফেরালেন। কংগ্রেসকে আয়না দেখিয়ে বললেন, “কিছু রাজনৈতিক শক্তি আমাকে গণতন্ত্র নিয়ে জ্ঞান দিতে আসে। ওঁদের ছল আর কপটতা দেখেছেন। ওই দলটাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও পুদুচেরিতে পুরসভা নির্বাচনের আয়োজন করেনি। সেখানে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার মাত্র এক বছরের মধ্যে আমরা কাশ্মীরে নির্বাচন করিয়েছি। আমি কাশ্মীরবাসীকে শুভেচ্ছা জানাব, সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে গণতন্ত্রকে মজবুত করার জন্য।”





