শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার ট্রেনের টাকা এবার দেবে কংগ্রেস। প্রধান বিরোধী দলের এই মোক্ষম চালে রীতিমত কুপোকাত বিজেপি। দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধী সোমবার এই ঘোষণা করেন।
গত শুক্রবার শ্রমিক দিবসের দিন দেশের নানা প্রান্তে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে বিশেষ ট্রেনের অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ট্রেনের ভাড়া শ্রমিকদেরই দিতে হবে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্র। শ্রমিক প্রতি ৫৫০ টাকা করে টিকিট ধার্য করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই নিয়ে স্বভাবতই বিরোধী শিবির আক্রমণ শুরু করে মোদী সরকারের উপর। ভিন রাজ্যে আটকে থাকা অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকদের এবার ঘরে ফেরার খরচ জোগাবে কংগ্রেস। এক বিবৃতিতে সনিয়া গান্ধী বলেন, “অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজের রাজ্যে ফেরার ভাড়ার টাকা জোগাবে সেই রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। এর জন্য সরকারের ওপরে ভরসা করতে হবে না শ্রমিকদের। এটা সহনাগরিকদের প্রতি কংগ্রেসের কর্তব্য। আমরা ওদের প্রতি সহানুভুতি জানাই। শ্রমিকরাই এই দেশের মেরুদণ্ড। ওঁদের পরিশ্রম আর আত্মত্যাগই দেশ নির্মাণের ভিত্তি। ১৯৪৭ দেশভাগের পর কোনো দিন শ্রমিকদের এভাবে দুর্দশায় পড়তে হয়নি।”
https://twitter.com/ANI/status/1257138711885606914?s=20
‘শ্রমিক স্পেশ্যাল’ ট্রেনের টিকিটের দাম এবং শ্রমিকদের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব রাজ্য সরকারের উপর চাপিয়ছে কেন্দ্র। শ্রমিকদের কাছ থেকেই তা তুলতে হবে। এবং এই টাকা তুলে রেলের হাতে তুলে দেওয়ার দায়িত্বও রাজ্য সরকারগুলিই। রাজ্য চাইলে শ্রমিকদের থেকে টাকা নাও নিতে পারে। তবে, টিকিট ছাড়া রেল শ্রমিকদের ফেরাবে না। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করে সনিয়া বলেন, ‘বিদেশে আটকে থাকা নাগরিকদের ফেরাতে বিনামূল্যে বিমান সফর করিয়ে যখন সরকার নিজেদের দায়িত্ব চেনাতে ব্যস্ত, যখন সরকার গুজরাটে মাত্র একটি অনুষ্ঠানের জন্য ও তার যাতায়াত এবং খাওয়া খরচের জন্য ১০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ করতে সমর্থ, যখন প্রধানমন্ত্রীর করোনা তহবিলে ১৫০ কোটি টাকা দান করেছে রেলমন্ত্রক, তখন দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের প্রতিও কেন সমান সৌজন্য দেখানো হবে না। বিশেষত এই কঠিন দুর্দশার মধ্যে বিনামূল্যে রেল সফরও কেন করতে দেওয়া হবে না?
একদিকে টানা লকডাউনের জেরে দেশে কল-কারখানা, অফিস-কাছারি বন্ধ। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পরিযায়ী শ্রমিকদের। তাদের রোজগার পুরো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সরকার প্রথমবার লকডাউনে তাঁদের জন্য আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করলেও দ্বিতীয়বারের লকডাউনের বেলায় নতুন কোনও ঘোষণা আসেনি। এই অবস্থায় দেশের নানা প্রান্তে আটকা পড়া পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার অনুমতি পেলেও কীভাবে ভাড়ার যোগান হবে তানিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন। এবার তাদের মুশকিল আসান করছে কংগ্রেস। ওয়াকিবহাল মহল যদিও তাদের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক চাল বলেই মনে করছেন।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার