মদের দোকান খুলতেই হুলুস্থুল দেশজুড়ে! দিল্লীতে দীর্ঘ লাইন,পড়ল লাঠি,বাংলায় ঝাঁপ নামল দোকানের!

মদের দোকান খুলতেই উৎসাহী সুরাপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেল দেশজুড়ে। মদ কেনার হিড়িকে লাটে উঠেছে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংও। কর্নাটকে সকাল থেকেই দেখা গিয়েছে মদের দোকানের সামনে লম্বা লাইন। সেই একই ছবি ধরা পড়েছে দিল্লি, ছত্তীসগড়ের বিভিন্ন জায়গায়। দীর্ঘ দিন পর মদের দোকান খোলা পেয়ে হুড়োহুড়ো শুরু হয় দিল্লির বিভিন্ন দোকানের সামনে। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিও চালাতে হয়। দিল্লির কাশ্মীরি গেটের সামনে একটি মদের দোকানের সামনে জনতার ভিড় সামলাতে লাঠি চালিয়েছে পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার মদের দোকান খোলার বিষয়ে এখনও কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। তবে মদের দোকান খোলার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার ছাড় দিয়েছে সব জায়গাকেই। তার জেরেই সোমবার সকাল থেকে হাজারও মানুষের ভিড় শহরের বিভিন্ন মদের দোকানের সামনে। সেই ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেল পুলিশ। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গের ছবিটাও কার্যত একই।

কালীঘাট দমকলের পাশে মদের দোকান। দোকানের শাটার তখনও খোলেনি, তার মধ্যেই দোকানের সামনে ফুটপাতে ৫০০ মানুষের লম্বা লাইন। প্রত্যেকের হাতে বিভিন্ন মাপের থলে। কয়েক মিনিট পরেই দোকানের তালা খুলে শাটার অর্ধেক তুললেন দোকানের এক কর্মী। সঙ্গে সঙ্গে ৫০০-৬০০ মানুষের লাইনটা এগিয়ে গেল। এক জনের ঘাড়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন অন্যজন। সবাই চেষ্টা করছেন দোকানের কাউন্টারের কাছে আগে পৌঁছতে। আর তা নিয়েই শুরু হয় ঠেলাঠেলি ও বচসা। সেই ছবি দেখলে কেউ বলবে না, দেশ জুড়ে লকডাউন চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে পুলিশ আসে। ওই ভিড় সামাল দিতে নাজেহাল হন তাঁরাও। রীতিমতো লাঠি নিয়ে পুলিশ তাড়া করে উৎসাহী সুরাপায়ীদের। তাতেও ভাটা পড়েনি উৎসাহে। একদিকে তাড়া করলে সুরাপায়ীরা অন্যদিক দিয়ে তাঁরা এসে হাজির হচ্ছেন দোকানের সামনে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বেগতিক দেখে, পুলিশের নির্দেশে দোকান বন্ধ করে দেন মালিক। সোমবার সকাল থেকে একই ছবি দেখা গেল ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজারের কাছে, মহিম হালদার স্ট্রিটের একটি মদের দোকানের সামনে। সব মিলিয়ে গোটা কলকাতার ছবিটাও একই রকম।

এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও পরিস্থিতি কার্যত একই। অনেক জায়গায় গভীর রাত থেকে মদের দোকানের সামনে লাইন দিতে দেখা গিয়েছে সুরাপায়ীদের।

কেন্দ্র সবুজ সঙ্কেত দিলেও এই সময় পঞ্জাব, কেরলের মতো কয়েকটি রাজ্য-এ মদের দোকান খুলবে না বলে জানিয়েছে সেই রাজ্যের সরকার।

RELATED Articles

Leave a Comment