ভিড়ের দাপটে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগও মেলেনি! ট্রেন ধরতে গিয়ে ওভারব্রিজেই চাপা পড়ে মৃ’ত্যু!

রেলস্টেশন মানেই ব্যস্ততা, ট্রেন ধরার তাড়া, যাত্রীদের অগণিত ভিড়। এক মুহূর্তের দেরি মানেই গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে বড় বাধা। এই তাড়াহুড়োর মাঝেই প্রায়শই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। কখনও চলন্ত ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণহানি, কখনও বা প্ল্যাটফর্মের ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা। বিশেষ করে উৎসবের সময় বা সপ্তাহান্তে এই বিপদের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। তার মাঝেই আবার কখনও কখনও ঘটে যায় এমন কিছু ঘটনা, যা সাধারণ মানুষের বুকে আতঙ্কের ছাপ ফেলে রেখে যায়।

সাম্প্রতিক এক ঘটনায় এমনই এক ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়ল এক রেলস্টেশনে। রাতের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎই শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা, আর তার জেরে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এক মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় স্টেশনের চেনা চিত্র। আতঙ্কিত মানুষের ছুটোছুটি, আর্তনাদ, চারপাশে ছড়িয়ে পড়া হতভাগ্যদের দেহ— সেই রাতের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা কোনওদিনও ভুলতে পারবেন না প্রত্যক্ষদর্শীরা।

শনিবার রাত প্রায় ৯টা। ব্যস্ত রেলস্টেশনে তখন অসংখ্য যাত্রীর ভিড়। বহু মানুষ ওভারব্রিজের ওপরে দাঁড়িয়ে ট্রেন ধরার অপেক্ষায় ছিলেন। আচমকাই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য মানুষ সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকেন। সেই প্রবল ভিড়ে অনেকে পড়ে যান, কিন্তু থামার সময় ছিল না কারও। একের পর এক শিশু, মহিলা, পুরুষ হুড়মুড়িয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, আর তাঁদের উপর দিয়েই দৌড়তে থাকে ছুটন্ত জনতা। চিৎকার, আর্তনাদে ভরে ওঠে স্টেশন। কারও মাথায় আঘাত লাগে, কারও হাত-পা ভেঙে যায়, কেউ ধাক্কায় রেলিংয়ের বাইরে ছিটকে যান।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলা এবং শিশু রয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, পড়ে যাওয়া মানুষদের তোলা সম্ভব হয়নি। কেউ বাঁচার জন্য হাত বাড়ালেও সাহায্যের কেউ ছিল না। দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন অনেকে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু অনেকের প্রাণ আর বাঁচানো যায়নি। পুরো ঘটনার কেন্দ্রস্থল ছিল নয়াদিল্লি স্টেশন।

আরও পড়ুনঃ বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের জেরে বৃষ্টি! ফের কি ফিরবে শীতের আমেজ? কি বলছে আবহাওয়া দপ্তর?

এই মর্মান্তিক ঘটনায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তটি ছিল সঞ্জয়ের জন্য। পরিবারের সঙ্গে তিনি ওভারব্রিজ দিয়ে নামছিলেন। আচমকা ঠেলাঠেলিতে তাঁর স্ত্রী, কন্যা, বৌদি এবং বোন পড়ে যান। কোনওভাবে তিনজনকে টেনে তুলতে পারলেও খুঁজে পাচ্ছিলেন না বোনকে। আধ ঘণ্টা পর নিস্তেজ অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁকে। এক ঘণ্টা ধরে সিপিআর দিয়েও কোনও সাড়া মেলেনি। কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। শেষমেশ বোনকে কাঁধে তুলে নিয়ে রেললাইন ধরে দৌড়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles