শীতের আমেজ ক্রমশ কমছে রাজ্যে। কুয়াশার দাপট কিছুটা থাকলেও বেলা বাড়তেই ঝলমলে রোদ দেখা যাচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ-সহ গৌড়বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকছে, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছচ্ছে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। উত্তুরে হাওয়া এখনও সকালের দিকে অনুভূত হচ্ছে, তবে তাপমাত্রার পারদ ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী।
এই আবহাওয়ার মাঝেই আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যে প্রবেশ করতে চলেছে এক নতুন দুর্যোগ। বুধবার থেকে রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হচ্ছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব বাতাসের মাধ্যমে প্রচুর জলীয় বাষ্প বইয়ে আনবে। তার ফলে রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও, কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এই দুর্যোগের প্রভাব বেশি পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায়, বিশেষত কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, তাপমাত্রার পারদ বাড়লেও এই বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে ঠান্ডার আমেজ ফিরে আসতে পারে।
তবে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে রাজ্যের কৃষকদের মধ্যে। সরষে, গম এবং অন্যান্য শীতকালীন ফসলের জন্য এই আকস্মিক বৃষ্টি সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে, ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ফসলের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার পরিবর্তন নজর রাখতে হবে, কারণ যদি বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে কৃষিক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুনঃ ১৯ বছরের দাম্পত্যের ইতি! বিচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অনিন্দ্য-মধুজা
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই দুর্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। দু’-একদিনের মধ্যেই আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে, এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করছে ঘূর্ণাবর্তের শক্তির উপর। আগামী ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর। এখন দেখার, রাজ্যে এই আকস্মিক পরিবর্তন কতটা প্রভাব ফেলে জনজীবনে।





