লকডাউন এর জেরে প্রবলভাবে ধাক্কা খেয়েছে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। সরকারি হোক বা বেসরকারি কোন সংস্থাই এই দুই মাসে লাভের মুখ দেখেনি। এইবার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতনে রাশ টানতে চলেছে তেলেঙ্গানা সরকার। প্রবল আর্থিক সংকট সামাল দিতে চলতি মে মাসে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অর্ধেক বেতন কেটে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লকডাউনের আগে পর্যন্ত প্রতি মাসে তেলেঙ্গানা সরকারের ন্যূনতম ১২,০০০ কোটি টাকা আয় হত। কিন্তু লকডাউনের জেরে তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। মে মাসে রাজ্য সরকারি কোষাগারে ঢুকেছে মাত্র ৩,১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আছে কেন্দ্রীয় করের রাজ্যের অংশীদারিত্বের ৯৮২ কোটি টাকা।
এরকম পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন কর্মচারীদের বেতন এবং পেনশন দিতে গেলে সরকারের তিন হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হবে সেখানে রাজ কোষাগার তো শূন্য হয়ে যাবে। তখন সরকারি উন্নয়নের সমস্ত কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে আমরা একটা কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছি।
অবশ্য এই পদক্ষেপ জানার পরে মাথায় হাত পড়েছে তেলেঙ্গানার সরকারি কর্মচারীদের। এমনকি স্বস্তিতে নেই অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও। তেলেঙ্গানা সরকার জানিয়েছেন, চলতি মে মাসে অর্ধেক বেতন কেটে নেওয়া হবে সরকারি কর্মচারীদের। ফলে বেতনের বাকি অর্ধেক টাকা হাতে পাবেন তাঁরা। একইভাবে এই মাসে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশনের ২৫ শতাংশ কেটে নেবে সরকার। আউট সোর্সিং এবং ঠিকাকর্মীদের ক্ষেত্রে প্রাপ্য অর্থের ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে।
শুধু সরকারি কর্মচারী নন, জনপ্রতিনিধি এবং আইএএস, আইপিএস-এর মতো অল ইন্ডিয়া সার্ভিস অফিসারদের বেতনেও কোপ পড়তে চলেছে। জনপ্রতিনিধিদের মে মাসের বেতনের ৭৫ শতাংশ এবং অল ইন্ডিয়া সার্ভিস অফিসারদের বেতনের ৬০ শতাংশ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেলেঙ্গানা সরকার।
একইভাবে রাজ্যে দারিদ্রসীমার নীচে (BPL) বসবাসকারী পরিবারগুলিকে ১,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেলেঙ্গানা সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (CMO) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লকডাউন শিথিল হওয়ায় মজুর ও শ্রমিকদের জন্য দৈনিক কাজের সন্ধানের পথ খুলে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিপিএল ভুক্ত পরিবারগুলির জন্য বিশেষ সরকারি আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা হচ্ছে। এই সমস্ত পরিবার চলতি মে মাসের আর্থিক সহায়তা পাবে না। তবে মে মাস জুড়ে ১২ কিলো করে চাল দেওয়ার প্রকল্প অব্যহত থাকছে। সামাজিক সুরক্ষা পেনশন প্রকল্পেও কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।





