বিহারে ভোটার তালিকা নিয়ে এখন চরম বিতর্ক। এই বিতর্ক নতুন নয়, তবে এবার বিষয়টি গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। প্রায় সাড়ে চার কোটিরও বেশি মানুষের ভোটাধিকার এখন প্রশ্নের মুখে। সুপ্রিম কোর্টে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠন দাবি করেছেন, এই বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। যার ফলে সংবিধানস্বীকৃত নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে বলেই আশঙ্কা।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি সুর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ১ আগস্ট যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা, তা থামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। এই সিদ্ধান্তের পিছনে যুক্তি হিসেবে জানানো হয়, এটি শুধুমাত্র একটি খসড়া তালিকা এবং এই তালিকায় কোনো অবৈধতা থাকলে তা পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব। তবে বিচারপতিরা নিশ্চিত করেছেন, পুরো বিষয়টি দ্রুত শোনা হবে এবং যেকোনো বেআইনি পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা হবে।
আবেদনকারী সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর হয়ে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান, প্রায় ৪.৫ কোটিরও বেশি ভোটার এই নতুন প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত হতে পারেন। একবার খসড়া তালিকা প্রকাশ হলে, বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের আবার নিজে থেকে আবেদন করে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করাতে হবে, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, ভোটারদের সম্মতি ছাড়াই কিছু জায়গায় ফর্ম পূরণ করা হচ্ছে, মৃতদের নামেও নথি জমা পড়ছে।
আদালতের আগের নির্দেশ অনুসারে, ভোটার যাচাইকরণে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড (EPIC) এবং রেশন কার্ড বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন পাল্টা জানায়, রেশন কার্ডে বহু ভুয়ো নথি রয়েছে এবং তাদের আপত্তি রয়েছে এই ধরনের নথি ব্যবহারে। অনেক আবেদনকারী প্রশ্ন তোলেন, যদি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আধার গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে বিহারের মতো গরিব, অশিক্ষিত, এবং স্থানান্তরিত মানুষের রাজ্যে হঠাৎ করে কঠোর নথির নিয়ম কেন?
আরও পড়ুনঃ Wrong medicine : ভুল ওষুধে ভাঙল গর্ভবতীর স্বপ্ন! চাঞ্চল্য চিকিৎসাকেন্দ্রে, প্রেসক্রিপশন উপেক্ষা করেই কেন দেওয়া হল অন্য ওষুধ? প্রশ্নের মুখে ন্যায্য মূল্যের দোকান!
এই মামলায় একাধিক রাজনৈতিক দল যেমন কংগ্রেস, সিপিআই, আরজেডি, শিবসেনা (UBT), সিপিআই(এমএল), ডিএমকে-সহ নানা বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, এই তড়িঘড়ি করা বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া মূলত সংখ্যালঘু, দলিত এবং গরিব ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা। পাশাপাশি ১৯৫০ সালের প্রতিনিধি আইন এবং ১৯৬০ সালের নির্বাচনী বিধির নিয়ম লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। আপাতত খসড়া তালিকা প্রকাশ স্থগিত না হলেও, বিষয়টি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন অব্যাহত।





