সাম্প্রদায়িক সংরক্ষণের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল, শুক্রবার এক মামলার রায়ে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, শুধুমাত্র সংরক্ষণের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা ভালো চাকরি থেকে বঞ্চিত হন, এই ব্যবস্থা বন্ধ হওয়া দরকার।
এদিন বিচারপতি উদয় ললিতের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, সংরক্ষণ নীতির কথা মাথায় রেখে আসন সংরক্ষণের সময় উপযুক্ত ও দক্ষ প্রার্থীদের অধিকার সবচেয়ে আগে। আদালতের মতে, যোগ্যতার নিরিখেই কোনও প্রতিযোগিতা প্রমাণ করা যেতে পারে।
এই বিষয়ে বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাট তাঁর রায়ে বলেন, “যে কোনও ক্ষেত্রেই সংরক্ষণ সরকারি চাকরিতে সামগ্রিক প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করে। কিন্তু এই নীতি কখনই অনড় হিসেবে দেখা উচিত হবে না। বিশেষ করে দেখা দরকার, সাধারণ ক্ষেত্রে কোনও প্রার্থীর যোগ্যতামান যেন তাতে বিঘ্নিত না হয়”।
বিচারপতি ভাট আরও লিখেছেন, “এমন অচলাবস্থা বজায় থাকলে তা শেষ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সংরক্ষণে পর্যবসিত হবে, যার জেরে প্রতিটি সামাজিক ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতার মানদণ্ড বিবেচনার বিষয়টি আবদ্ধ হয়ে পড়বে। অসংরক্ষিত ক্ষেত্রে সকলের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকে এবং সেখানে একমাত্র মানদণ্ড হয় প্রার্থীর যোগ্যতা”।
প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশে মহিলা পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাক্তন সেনাকর্মী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মতো বিশেষ শ্রেণীর প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের নীতি অনুযায়ী, পুরুষ কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ শ্রেণীতে পাশ নম্বরের চেয়ে বেশি নম্বর অর্জনকারীদের আগে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মহিলা কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয়নি।
এর আগেও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের বলা হয় যে, তফশিলি জাতি, উপজাতি ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর সংরক্ষিত প্রার্থীরা যোগ্যতার মানের ভিত্তিতে সাধারণ শ্রেণীতে প্রতিযোগিতায় নামতে পারেন। আদালতের মতে, শূন্যপদ খালি করতে কোনও ভাবেই যোগ্য প্রার্থীর বদলে সংরক্ষিত শ্রেণীর অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ করা যাবে না। এবার এই উত্তরপ্রদেশের মামলাটির ক্ষেত্রেও ২১ জন মহিলার সপক্ষে রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।





