করোনার মধ্যে মদের দোকানগুলোর ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট। তবে মদ বিক্রির ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে মদের দোকানে লাইন করতে হবে। এছাড়াও ‘পরোক্ষ বিক্রি বা হোম ডেলিভারি’র বিষয়ে বিবেচনা করে দেখতে রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় চলতি লকডাউনে মদ বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারির আর্জি জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। শুক্রবার এই মামলার শুনানি হয় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। এদিন মামলাটি শোনেন ৩ বিচারক। বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি সঞ্জয় কিষণ কৌল এবং বিচারপতি বিআর গভাই। মামলা দায়ের হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ রায় দেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মদ বিক্রির ক্ষেত্রে মদের হোম ডেলিভারির বিষয়টি নিয়ে রাজ্যগুলির বিবেচনা করা দরকার। তবে এই বিষয়ে আমরা আর কোনও নির্দেশ দেব না।’
এর আগে মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী জে সাই দীপক সর্বোচ্চ আদালতকে জানান, সরকারের তরফে কম সংখ্যক মদের দোকান খোলার অনুমতি থাকায় সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় নজরে আসে। আর এই ভিড়ের জেরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কার্যত অসম্ভব। এভাবে মদ বিক্রি হতে থাকলে করোনা সংক্রমনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। মদ বিক্রির জেরে সাধারণ মানুষ যাতে কোনওভাবে সংক্রামিত না হন সেই বিষয়েই জোর দেন আইনজীবী। মদ বিক্রি নিয়ে প্রতিটি রাজ্যকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য বা নির্দেশিকা পাঠানো আবশ্যক বলেও দাবি করেন মামলাকারীর আইনজীবী।
কনটেনমেন্ট জোন ছাড়া সোমবার থেকে দেশের প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই মদের দোকান খুলেছে। প্রথমদিনেই বিশাল ভিড় নজরে আসে বিভিন্ন শহরে। এক একটি দোকানের বাইরে রীতমতো হাজার-হাজার মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে। এছাড়া এই ভিড়ের জেরে অধিকাংশ জায়গাতেই সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং অমান্য করা হয়েছে। রাজধানী দিল্লির অধিকাংশ মদের দোকানের সামনে মানুষের লম্বা লাইন সামলাতে লাঠি চার্জও করতে হয় পুলিশকে।





